মুটার্ট কনজারভেটরি: এক লহমায় পৃথিবী ভ্রমণ
সেলিনা শেলী
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রোববার একটা মজার অভিজ্ঞতা হলো। সারা পৃথিবীর প্রধান জলবায়ু অঞ্চলগুলোতে না ঘুরেও ঘোরা হয়ে গেলো। অদ্ভুত লাগছে শুনতে? কিন্তু মোটেও তা নয়। এডমন্টন শহরের একেবারে কেন্দ্রের যে চারটে পিরামিড আছে – তাই আপনাকে সেই অপার অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেবে। আপনি শহরের যে প্রান্ত থেকে যে প্রান্তেই যান না কেনো – এদের দেখা পাবেন। এডমন্টনের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে পুরো শহরের সড়কগুলো টিলার উঁচু নিচুতে সাপের মতো লেপ্টে আছে। কাজেই উঁচুতে উঠলেই দূর অবধি দেখা যায়। দু বছর ধরে এখানে আছি, কতো দূরদূরান্ত ঘোরা শেষ, তবু বাড়ির পাশের আরশিনগর দেখা হলো না। ছেলে তূর্য বললো – “চলো, আজকে তোমাকে পুরো পৃথিবী ঘুরিয়ে আনবো। শুধু তাই নয়, ব্রহ্মাণ্ডের বাইরের মঙ্গল গ্রহেও নিয়ে যাবো।”
ছেলের এই অদ্ভুত হেঁয়ালির কিচ্ছু না বুঝেই তৈরি হলাম। তাপমাত্রা যদিও প্রচণ্ড বাজে, মাইনাস ২৬ ডিগ্রিই শুধু নয়, সাথে ঘূর্ণি তোলা বাতাসের সাথে তুষারগুলো কেনো যে এমন আলুথালু ঝাপটে জাপটে ধরছে – বুঝতে পারছি না। অবশ্য তুষার, বৃষ্টি, ঝকঝকে রোদ্দুর – সবই আমার ভালো লাগে। তবে এখানে এসে এই তুষারপাত আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করেছে। বেড়ালনিভৃত পায়ে ঝরতেই থাকে, তার ভেতর লোকজন দিব্যি হেঁটে যায়, পাত্তা না পেয়ে বেহায়া তুষার টুপি জ্যাকেটের ধার ঘেঁষে নিচে পড়ে যায়। শীতে এডমন্টনের আবহাওয়ার কোনো ঠিক নেই। এই রোদ তো এই তুষারপাত। রোদ আবার এমনই প্রতারক যে, দেখতে ঠিক রোদের মতোই,অথচ উত্তাপহীন! আমি বলি – হিমরোদ্দুর। এখানকার একজন আদিবাসি একবার বলেছিলেন – বছরের প্রথম তুষারপাতে নাকি কিছু চাইতে হয় – আর তখনই সেটি পূরণ হয়। তাকে আর জিগ্যেস করা হয়নি, কার কাছে চাইবো, কানাডিয়ান আদিবাসি দেবতার কাছে, নাকি খ্রিষ্টান তুষার দেশের গডের কাছে? যাই হোক – সকালের ঝকঝকে আকাশ, সাথে উইকেন্ড। ঠিক হলো – মুর্টাট কনজারভেটরি দেখতে যাবো।
ওমা, নাস্তা সেরে দুপুরের আগে বেরোতে যাবো – অমনি তুমুল অমল ধবল তুষার ঝরা শুরু করে দিলো!
বাসা থেকে বেরুতেই দেখি – তূর্যের গাড়ির নিচে পাশের গাছকুঠুরির খরগোশখানা বসে আছে। এপার্টমেন্টের ভেতর থেকে তূর্য গাড়ি স্টার্ট করেছে, গাড়ির নিচে একটু উষ্ণ হয়ে উঠেছে। হয়তো সেই উষ্ণতাটুকু নিতেই খরগোশটি বসে ছিলো। আমাদের সাড়া পেয়ে মুহূর্তে পালিয়ে পাশের গাছের কোটরে ঢুকে গেলো। বড় মায়া হলো আমার। প্রতিদিন সে একটু উষ্ণতার জন্যে পার্কিংয়ে ফিরে আসা গাড়িগুলোর নিচে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। তূর্য বললো – এরা এভাবেই অভ্যস্ত।
তীব্র বাতাস আর তুষারপাত, ভীষণ ঠাণ্ডায় আমরা চলেছি মুর্টাট কনজারভেটরি দেখতে। এটি কানাডার বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ উদ্ভিদ সংরক্ষণাগারগুলোর একটি। শহরের কেন্দ্রে উত্তর সাস্কাচুয়ান নদীর পাড় ঘেঁষে অসাধারণ সুন্দর নিসর্গ ঘেরা অঞ্চলে এর অবস্থান।
গত নভেম্বর থেকে চাদ্দিক তুষারে ঢেকে যাচ্ছে। যখন পৌঁছলাম, ঝাপটা বাতাসে সাদা ফুলঝুরির মতো তুষার আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে কার্পণ্য করলো না। নদী উপত্যকায় পিরামিডগুলোর চাদ্দিকের কাচের দেয়াল সফেদ জমাট বরফের আস্তরণে শুভ্র পাহাড় হয়ে আছে।

দুটো ছোট আর দুটো বড় কাচের পিরামিড মিলে মুর্টাট কনজারভেটরি এই শহরের সবচেয়ে স্বীকৃত ল্যান্ডমার্কগুলোর অন্যতম।
১৯৭৬ সালে এডমন্টনে মুটার্ট কনজারভেটরি খোলা হয়েছিল এবং তখন থেকেই এটি দর্শনার্থীদের আনন্দিত করে আসছে। এটি উদ্যোক্তা গ্ল্যাডিস এবং মেরিল মুটার্টের স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে নির্মিত হয়েছিল, যারা ১৯৫০-এর দশকে বোটানিক্যাল গার্ডেন নির্মাণের জন্য দশ লক্ষ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। স্থপতি পিটার হেমিংওয়ে এই স্থাপনাগুলোর ডিজাইন করেছেন।
পিরামিডের সামনে পার্কিং লটে গাড়ি রেখে হেঁটে ভেতরে যাবার সময় তীব্র বাতাস-তুষারের কণার ঝাপটে চোখ মেলে রাখা দুষ্কর হয়ে উঠলো। তবু দুয়েকটা ছবি তুলে ভেতরে ঢুকলাম। ভেতরে ঢোকার পথে শিশুদের আনন্দ দেয়ার জন্যে দুইপাশে দুটো বরফাচ্ছাদিত এস্কিমোদের মতো ঘর, বসার জায়গা, খেলার সরঞ্জাম দেখতে পেলাম।
এখানে সরাসরি এসে অথবা অনলাইনে টিকিট কেটে ঢোকা যায়। দর্শনার্থীদের জন্যে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ১৫ ডলার করে দুটো টিকেট কেটে আমরা প্রবেশ করলাম। ভেতরে ঢুকতেই বিশাল বিশাল কক্ষগুলো নজরে এলো – বাইরে থেকে যা ধারণাই করতে পারিনি। একপাশে টিকিট কাউন্টার পেরিয়ে ম্যারিগোল্ড গিফট শপে পর্যটকদের জন্যে থরে থরে সাজানো জিনিসপত্র, স্যুভেনির, আরেক পাশে ক্যাফে ব্লুম রেস্তোরাঁ। নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিও বিক্রি হচ্ছে।
দেয়ালে বেশ কিছু ছবি। কোনোটি এই মুটার্ট কনজারভেটরির ডিজাইনার স্থপতি পিটার হেমিংওয়ের,দুটো গ্ল্যাডিস এবং মেরিলের যাঁরা এই আভ্যন্তরীণ উদ্ভিদ উদ্যানটি নির্মাণের জন্য ১৯৭৬ সালে দশ লক্ষ ডলারের তহবিল দান করেছিলেন। এমন বৈরি আবহাওয়াতেও ভেতরে পর্যটক গিজ গিজ করছে। টানেলের মতো জায়গা পেরিয়ে আমরা প্রথম পিরামিডে পৌঁছালাম। এগুলো সবই আন্ডার গ্রাউন্ডে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে – পৃথিবীকে জলবায়ু অনুযায়ী যে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে – জলবায়ু অনুসারে সেখানে যা যা গাছগাছালি জন্মে, যে জীববৈচিত্র্য, এখানে তা দেখাবার চেষ্টা করা হয়েছে (অবশ্য জীববৈচিত্র্য দেখানো সম্ভব ছিলো না বলে বানানো প্রাণীর দুয়েকটি ডামি রাখা হয়েছিলো)। অর্থাৎ তিনটি পিরামিড শুষ্ক মরু, নাতিশীতোষ্ণ এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় পরিবেশের উদ্ভিদ নিয়ে গঠিত হয়েছে। পৃথিবীর যে যে অঞ্চলে যে তাপমাত্রা পিরামিডগুলোর শুষ্ক, নাতিশীতোষ্ণ এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় বিভাজনে তা সংরক্ষণ করে সেই অঞ্চলের উদ্ভিদ এখানে লাগানো হয়েছে। আর সেগুলো বিস্ময়করভাবে ফুলে পাতায় কাণ্ডে বেড়ে উঠেছে। চতুর্থটি পিরামিডটি মৌসুমি জলবায়ুর এবং একটু বিচিত্র। সেটিতে নানা সময়ে নানা থিম অন্তর্ভুক্ত করেন কর্তৃপক্ষ। কখনও সমুদ্রের তলদেশের অনুভূতি নিতে পারেন দর্শনার্থীরা, কখনও মহাকাশে মঙ্গলগ্রহের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারেন।
দুটি বড় পিরামিডের আয়তন ৬৬০ বর্গমিটার করে অর্থাৎ ৭,১০০ বর্গফুট আর দুটি মাঝারি আকারের পিরামিডের আয়তন ৪১০ বর্গমিটার বা ৪৪০০ বর্গফুট।
এখানে ৭০০ টিরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।
প্রতিটি পিরামিডের প্রবেশ পথে দেয়ালে ট্রপিক্যাল, টেম্পারেট, এরিড অঞ্চলগুলোর মানচিত্রসহ নানান তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে টেম্পারেট বা নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে আমেরিকা কানাডার বেশ কিছু অঞ্চলকেও ফেলা হয়েছে। তার কারণ – এই বিশাল ভূখণ্ডের ব্যাপক অঞ্চল তীব্র শীতল বা উষ্ণ নয়। মোটামুটি মাঝারি তাপমাত্রার। বাকি যে অঞ্চল তীব্র ঠাণ্ডার সেগুলোকে আর্কটিক বা উপ-আর্কটিক অঞ্চলে ফেলা হয়েছে। যদিও উভয় দেশেই বিভিন্ন জলবায়ু দেখা যায়। কানাডার দক্ষিণাঞ্চলে নাতিশীতোষ্ণ বা আর্দ্র মহাদেশীয় জলবায়ু দেখা যায়, আবার উত্তরাঞ্চলে উপ-আর্কটিক বা আর্কটিক জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়, অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাতিশীতোষ্ণ, ক্রান্তীয় এবং মরুভূমির মতো আরও অনেক জলবায়ু রয়েছে।

প্রথমে আমরা শুষ্ক মণ্ডলীয় বা ARID অঞ্চলে প্রবেশ করলাম। দরোজার পাশেই এই অঞ্চলের ম্যাপে নির্দেশ করা আছে কোন্ কোন্ দেশ বা দেশাংশ এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সে হিসেবে একেবারে মঙ্গোলিয়া থেকে, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশ, আফগানিস্তান এরকম করে সব শুষ্ক জায়গাগুলো এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ভেতরে ঢুকে মরুভূমির খেজুর গাছ থেকে শুরু করে বিশাল বিশাল ক্যাকটাসসহ এমন সব উদ্ভিদ দেখতে পেলাম – যা এখানে জন্মানো সম্ভবই নয়, কিন্তু জলবায়ু, তাপমাত্রার নিয়ন্ত্রণে তারা তা ই করে নিয়েছে। মনে হলো – সত্যিই বালুকাময় কোনও এক মরু অঞ্চলে এসে পড়েছি! অথচ বাইরে কী ভীষণ ঠাণ্ডা মাইনাস ২৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা আর তুষারপাত! ভেতরে মরুর সহনীয় তাপ। অসংখ্য মরুর গাছে ভরা অঞ্চলটির বিশালাকার নানা প্রজাতির ক্যাকটাস দেখে অভিভূত হয়ে পড়েছি। দেশে যে ক্যাকটাস সাক্যুলেন্ট লাগিয়েছিলাম, মনে হচ্ছিলো – এখানকারগুলো যদি হয় ডায়নোসর, তো আমার টবেরগুলো ছিলো টিকটিকি। রুক্ষ ভূমিতে কাঁটাযুক্ত গাছের ভেতর ফুল ফুটে আছে – পাতায় কাণ্ডে পানি ধরে রেখে জীবন সংগ্রামের কী কৌশলই না তারা শিখে গেছে!

এরপর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলটিই সবচেয়ে সবুজ। এতো সুন্দর সব গাছ,অর্কিড, বড় বড় বট পাকুড়, কড়ই এরকম গাছ শুধু নয় – কলা,পেঁপে, নানান ফল-সব্জি এসব দেখতে পেলাম। মাছ খেলা করছে ছোট্ট পুকুরে। ঝর্ণা বয়ে চলেছে। আমাদের দেশের নানারকম গাছ ফুলে ভরে আছে এই অঞ্চলটি।

নাতিশীতোষ্ণ অংশে অস্ট্রেলিয়ার হ্রদ থেকে শুরু করে এশিয়ার পর্বতমালা পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের গাছপালা এবং ফুল গাছ দেখানো হয়েছে। এখানে বনভূমি এবং আলপাইন অংশে আলবার্টার অনেক গাছপালা দেখতে পেলাম। নানারকম ফার্ণ, ফুলে ফলে, বৃক্ষে ভরা এই অঞ্চলটিও। প্রত্যেকটি অঞ্চলে গাছের পাশে তথ্য দেয়া আছে। প্রতিটি এলাকা এমন নান্দনিকতা দিয়ে সাজানো যে দেখে মন ভরে যায়।
মৌসুমি অঞ্চলের পিরামিডটিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কিছু প্রদর্শিত হয়। আমি যখন গেছি তখন মঙ্গল গ্রহ প্রদর্শন করা হচ্ছিল – সেই প্রদর্শনীর সময়কাল ছিলো — ১১ জানুয়ারি থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত। সেজন্যে ঢোকার মুখেই একটি বোর্ডে এই গ্রহটির সব তথ্য পাওয়া গেলো।
মার্স লেখা সাইনবোর্ড ধরে যাবার পথে কাচের বক্সে মহাকাশের উল্কাপিণ্ড, গ্রহাণুর ক্ষুদ্র টুকরো তথ্যসহ সাজিয়ে রেখেছে। বায়োমে (পিরামিডে) ঢোকার মুখে মার্সের তথ্যলেখা প্লেটে এই গ্রহের চিত্রশিল্পী লুক জেরামের কথা উল্লেখ আছে। আমেরিকান এই বিশ্বখ্যাত শিল্পী, নাসার তোলা ছবিকে নিখুঁতভাবে সম্পূর্ণ একটি গ্রহের রূপ দিয়েছেন। উজ্জ্বল গোলাপি রঙের এই গ্রহটির ব্যাস ৭ মিটার। উপর থেকে ঝুলানো গ্রহটি ক্রম ঘূর্ণায়মান!হালকা গমগমে একটা মিউজিক বাজছে। সম্মোহিতের মতো সেই সিনেমাটিক দারুণ অর্কেস্ট্রার সুর ঘোরের ভেতর নিয়ে গেলো। পরে জানলাম – বিখ্যাত শিল্পী ড্যান জোন্স’র সুর এটি। সেই সুর আর সত্যিকার মঙ্গল গ্রহের মহিমা – আমাকে আকুল করে তোলে। যখন গ্রহের নিচের হেলানো সোফা আর বিছানার কাছে গেলাম তখনও জানতাম না মঙ্গলের নিচে চিৎ হয়ে শুয়ে বা বসে এই ঘূর্ণায়মান গ্রহ আমাকে, আমার কল্পনাকে কতোদূর নিয়ে যেতে পারে! সম্পূর্ণ নিমগ্নতায় ডুবে গিয়ে আমার মনে হলো – আমি যেন সত্যিই ভাসছি মহাশূন্যে, খুব কাছাকাছি আছি মঙ্গলের। যেন মহাকাশে ভেসে ভেসে মঙ্গলের পাশ দিয়ে চলেছি। প্ল্যানেটটি ঘুরছে – আর স্পষ্ট হয়ে উঠছে তার আগ্নেয়গিরি, পর্বত, উপত্যকা, গর্ত! এক অদ্ভুত মরুভূমি অঞ্চল যেন! সাত মিটার ব্যাসের এই শিল্পকর্মটিতে মঙ্গল গ্রহের উপর তলের ১২০ ডিপিআই সম্বলিত নাসার যে চিত্র রয়েছে তা প্রকৃত গ্রহের চেয়ে প্রায় দশ লক্ষ গুণ ছোট। অর্থাৎ এর প্রতি সেন্টিমিটার মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটারের প্রতিনিধিত্ব করছে।
দীর্ঘসময় চোখ বুঁজে অর্কেস্ট্রার সুরে সুরে এক অবিশ্বাস্য অবিশ্বাস্য অনুভূতি পাওয়া যায়! তবে ভাবনাকে ঘনীভূত করার আগে ঘুরন্ত গ্রহটিকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি। নোটিশ বোর্ডে লেখা ছিলো এখানেই ৩ মে – ২২ জুন, ২০২৫ পর্যন্ত গভীর সমুদ্রের ভেতরকার কাণ্ডকারখানা প্রদর্শিত হবে।
এখানে চাইলে যে কেউ বুকিং দিয়ে বিয়ে জন্মদিন, ওয়ার্কশপ বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেন। আমরা যখন ফিরছিলাম – তখন এক কনে আর তার হবু বর অতিথিদের সাথে ডগোমগো হয়ে ঢুকছিলেন; আর স্পিকারে এনাউন্স করা হচ্ছিলো – ৫টার পরে দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট একটি হল ছেড়ে দিতে হবে, কেননা সেটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বুকিং করা হয়েছে। মুখোমুখি হতেই আমি কনেকে উইশ করে বেরিয়ে এলাম।
নিঃসন্দেহে পর্যটক, শিক্ষার্থী, গবেষকদের জন্যে এই মুটার্ট কনজারভেটরি একটি আরাধ্য স্থান। ব্রহ্মাণ্ডের খোসার ভেতর ঘুরে আসার এই বিস্ময়কর অনুভূতিটি আমার জীবনের সত্যিই অতুল এক স্মৃতি হয়ে থাকবে।
সেলিনা শেলী, কবি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার। চট্টগ্রাম বন্দর মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ।
বর্তমান নিবাস কানাডার আলবার্টা