পাঠক-কথন
নারগিস দোজা
বই যে কবে থেকে পড়া শুরু করি সেটা একটা গবেষণার ব্যাপার হতে পারে। শুধু এটূকু মনে আছে ছোটবেলায় মাসুদ রানা হাতে দেখে ছোটদাদা ঠাস করে একটা চড় দিয়েছিল। মানে আগে থেকেই লুকিয়ে চুরিয়ে বই পড়ার অভ্যাস ছিল আর কি! আমি কি জানতাম ছাই ওটা বড়দের বই!
সেটা ছিল পাকিস্তান আমলের কথা। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার বহু আগেই দস্যু শশধর, দস্যু মোহন, দস্যু বাহরাম, দস্যু বনহুর পড়ার পর নীহাররঞ্জন গুপ্ত-সহ অনেক ভারতীয় লেখকের বই পড়া শেষ। ততদিনে আমি মুজতবা আলির দেশে বিদেশে আর শবনমও পড়ে ফেলেছি।
আমি পুরানো ঢাকার মেয়ে। আমাদের রাস্তাগুলোর নাম ছিল নবীনচন্দ্র গোস্বামী রোড, লালমোহন পোদ্দার লেন ইত্যাদি। হ্যাঁ, আমি অসাম্প্রদায়িক পরিবেশে বড় হয়েছি। ছোটদাদার বেশির ভাগ বন্ধুই সনাতনধর্মী ছিল। আমারোও তাই। সেই সময় মুসলমানদের চেয়ে হিন্দুদের মধ্যে বইপড়ার চর্চাটা বেশি ছিল। লালমোহন পোদ্দার লেনে একটা পাঠাগার ছিল – ছোটদাদার ক্লাব প্রগতিসংঘের। নানা ধরনের বই পড়া সম্ভব হয়েছিল পাড়ায় পাঠাগার থাকার জন্য। তখন পাড়ায় পাড়ায় ছেলেরা ক্লাব তৈরি করত। তাতে পাঠাগার থাকতো। বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে ফুটবল ক্রিকেট খেলা হতো। আর হতো মারামারি। তো ছোট দাদা মারামারি করলেও বইটই ঠিকই নিয়ে আসতো পড়ার জন্যে। অটোয়া গেলে দাদাকে থ্যাঙ্ক ইউ দিতে হবে একটা। ভাগ্যিস দাদা বইগুলো আনতো! ছোটদাদা চাকরিতে ঢুকে গেলে আমার বই পড়ার কিছুটা ইতি হয়ে গেল।
তারপর তো মুক্তিযুদ্ধই শুরু হয়ে গেল। দেশ স্বাধীন হবার পর দুই দাদারই বিয়ের হলো। এবার আমার অন্য ধরনের বই পড়ার সুযোগ এলো। কারণ ছোটদাদার এক শালার কমিউনিস্ট পার্টির সাথে কিছুটা ওঠাবসা ছিল – ওর চাচার সুবাদে। তিনি বামপন্থী ঘরানার রাজনীতি করতেন। সুকান্তর ছিন্নপত্র, ছাড়া রাশিয়ান লেখক ম্যাক্সিম গোর্কি মা, পিতাপুত্র ইত্যাদি পড়া শুরু হলো। আর পড়লাম চে গুয়েভারার জীবন।
আমার বিয়ের সময় মলয়দা উপহার দিলেন চারখণ্ড শ্রীকান্ত। দেবদাস পরিণীতা আগে পড়া থাকলেও শ্রীকান্ত আমায় অন্য শরৎচন্দ্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।
বিয়ের পর বিদেশ চলে গেলাম স্বামীর সাথে। বইয়ের সাথে সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল। দুই বছর পর ফিরে এলাম। বই আবার টানতে শুরু করলো। কিন্তু হাতের কাছে বই বলতে ছিল আমার স্বামী দোজা সাহেবের একগাদা ইংলিশ ওয়েস্টার্ন। শেষ পর্যন্ত সেগুলোই পড়া শুরু করলাম। কিন্তু অল্প বিদ্যা দিয়ে কুলিয়ে ওঠা বেশ কঠিন হতে লাগলো। দোজা সাহেবকে রোজ এটার মানে কী, ওটার মানে কী করে বিরক্ত করা শুরু করতে লাগলাম। শেষে বিরক্ত হয়ে তিনি ইংলিশ টু বাংলা আর বাংলা টু ইংরেজি ডিকশনারি কিনে হাতে ধরিয়ে দিলেন। এক মাস লেগে যায় এক একটা বই শেষ হতে। তবে এই কসরত বেশি দিন করতে হলো না। দোজা সাহেব জব নিয়ে মালয়েশিয়া চলে গেলেন। কয়েক মাস পরে আমিও। বছর দুয়েক কেলান্তানের বনে বাদাড়ে কাটিয়ে কুয়ালালামপুর সেটেল হলাম।
সেও মনে হয় বইটই মিস করছিল তাই কোথা থেকে একদিন একগাদা পুরাতন সাইন্স ফিকশন নিয়ে আসলো। প্রথমবার বইয়ের দাম ডিপজিট দিয়ে ভাড়ায় বই নিয়ে আসে। ফিরিয়ে দিলে ভাড়ার টাকা কেটে নেবার পর বাকি টাকা দিয়ে আবার বই আনে। কী মনে করে একদিন কতগুলো কমিক্স নিয়ে আসল আমার জন্য। কমিক্স পড়ে আমার ইংরেজি ঝালাইয়ের কাজ চলতে থাকে।
মালয়েশিয়ায় তিন বছর কাটিয়ে দেশে ফিরে গেলাম। দেশে ফেরার পর কিছু দিন পর মেয়ে হলো। সেই সময় প্রতি বছর ঈদ সংখ্যা বিচিত্রা বের হতো। তাতে নানা উপন্যাস থাকতো। কয়েকটা উপন্যাসের কথা মনে আছে। রিজিয়া রহমানের রক্তের ক্ষরে, সৈয়দ শামসুল হকের নিষিদ্ধ লোবান, আর মইনুল আহসান সাবেরের পাথর সময়। এটা থেকে নাটকও হয়েছিল। সেখান থেকে পড়ার অভ্যাস চালু হলো আবার। আগে পড়তাম পূজা সংখ্যা উল্টোরথ, প্রসাদ। এখন বিচিত্রা। এর মধ্যে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি হাতে এলো।
মেয়ে বড় হবার পর স্কুলে ভর্তি হলো। ইংরেজি মিডিয়ামের ছাত্রী মেয়েকে পড়াতে গিয়ে আমারও একটু করে ইংরেজি ঝালাই হতে থাকলো। ও হাঁ, একটা কথা না বললেই নয়। আমার শাশুড়ি সেবা প্রকাশনীর বইয়ের ভক্ত ছিলেন। মায়ের জন্য আমি দ্বিতীয়বার মাসুদরানা হাতে নিলাম, কোন মারধোর ছাড়াই! মায়ের সাথে নিউমার্কেটের বইয়ের দোকানে যাই, বই কিনে আনি। দুইজনে পড়ি।
দুই হাজার এক সালে আমরা কানাডায় আসি। ডাউনটাউনে রিভার স্ট্রিটে থাকি। কাছে ছিল গুড উইল। পুরাতন জিনিস পত্রের সাথে সেখানে পুরাতন বইয়ের ট্রেজার আবিষ্কার করি। শুরু হয় আবার বই পড়া। আগে রোমান্টিক আর ওয়েস্টার্ন পড়ার অভ্যাস ছিল। এবার সমস্ত অরিজিনাল রোমান্টিক আর ওয়েস্টার্ন হাতের মুঠোয় পেয়ে মাথা খারাপ অবস্থা। মেয়েকে পড়ানোটা এবার আমার কাজে লাগে। এবার আর ডিকশনারির দরকার হয়নি। কতো যে বই পড়েছি তখন। তারপর কেটে গেছে এগারো বছর। এই এগারো বছরে নানাবিধ ঝড়ে জীবন উলোটপালট হয়ে গেছে। অনেকখানি সময় কেটেছে হাসপাতাল আর বাসা করে।
এখানে আসার পর প্রথমবারের মতো হাজার উনিশে। অনলাইনে এক সাহিত্য গ্রুপে যোগ দেই। সে এক আলাদা সুখ। তার আগে ফ্রি দেশবিদেশ পত্রিকা পাঠই ছিল বাংলা ভাষার যোগাযোগ মাধ্যম, মৌখিক ভাষা ছাড়া। যা আমার জন্য ছিল হাতে আকাশের চাঁদ পাওয়ার সমান। একগ্রুপ থেকে বেশ কয়েকটা গ্রপের সদস্য হয়ে গেলাম।
এখানে একটা কথা বলি তাহলে বোঝা যাবে আমি কোন স্কেলের পাঠক। মানুষ ঝালমুড়ি, বাদাম ভাজা খেয়ে ঠোঙা ফেলে দিত আর আমি সেগুলোকে খুলে সমান করে পড়তাম। সাধারণ সেগুলো পুরাতন বইয়ের পৃষ্ঠা দিয়ে বানানো হতো। এটা একসময় আমার কাছে নেশার মতো ছিল।
এইসব গ্রুপের একটা থেকেই আমার একজন লেখকের সাথে পরিচয় হয়ে গেল। তার প্রথম উপন্যাস বের হয়ে গেছে। আমরা একটা আমেরিকান মহিলা গ্রুপে ছিলাম দুইজনেই। সেখানে লেখালিখি করে এমন আরো কয়েকজন ছিল। আনফরচুনেটলি আমাদের গ্রুপটা বন্ধ হয়ে গেছে। সে সেখানে তার প্রথম উপন্যাসটা ধারাবাহিকভাবে পোস্ট করছিল। আমার সেই লেখিকা বন্ধু এখন সে আমার ছোট বোন। আর আমি ওর বড়োপা। সেইসব বন্ধুরা অন্য সাহিত্য গ্রুপে এড করে দেয়। আমেরিকায় আমার একজন লেখক বন্ধু আছে। দুইজনের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা থেকে আমেরিকায় তার কাছে বই এসে পৌছানোর পর সে আমেরিকা থেকে এক বাক্সো বই পাঠিয়ে দিল। আমার তো রীতিমতো ঈদের চাঁদ রাত হয়ে গেল। এতো বাংলা বই! কখন পড়বো!
তারপর কখন যেন লিখতেও শুরু করে দিলাম। পাঠক থেকে হয়ে গেলাম পাঠক লেখক। একদিক দিয়ে সেটা শাপে বর হয়েছে।। কতো নামিদামি লেখকদের সাথে পরিচয় হয়ে গেল। বন্ধুত্ব হয়েছে। তাদের বই পড়ছি। শিখছি। আলোকিত হচ্ছি। একটা দুটো করে বই সংগ্রহ করছি আর পড়ছি।
এতোদিন আমার পড়া বইগুলো ছিল উপন্যাস, গল্প অথবা কবিতার বই। হঠাৎ করেই ব্যাপারটা বদলে গেল। উপন্যাস কবিতা আর গল্পগ্রন্থের বাইরে প্রথমবার আমি প্রবন্ধ নিয়ে সংকলিত বই পড়া শুরু করলাম। আর এই দৃষ্টি ফেরানোর কাজটা করলেন প্রখ্যাত গবেষক লেখক সুব্রত কুমার দাস ভাই তার কানাডা: বিবিধ প্রসঙ্গ বইটি দিয়ে।
সুব্রত ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় বছরখানেক আগে। একদিন ভাইয়ের টাইম লাইনে একটা বই নিয়ে পোস্ট দেখলাম। কয়েকজন বাংলাদেশী কানাডীয়ান লেখক কানাডার নানা প্রসঙ্গ নিয়ে লিখেছেন। যেটার সম্পাদনার কাজটি করেছেন ভাই স্বয়ং। ব্যপারটা আমার কাছে নুতন। বইটা নিয়ে আমার আগ্রহ জন্মানোতে আমি ভাইকে বললাম বইটা আমি নিতে চাই। ভাই ব্যস্ত মানুষ হওয়া সত্বেও বাড়ি বয়ে বই পৌঁছে দিতে আসলেন। ভাইয়ের হাতে আরও দুটো বই ছিল। একটা ভাইয়ের কানাডায় সেটেল হওয়া এবং এখানে বাংলা সাহিত্য নিয়ে কাজ করা নিয়ে লেখা। অন্য বইটা কানাডার বেশ কয়েকজন অতীত ও বর্তমানের সাহিত্যকদেরকে নিয়ে লেখা। আমি সবগুলো বইয়ের ব্যপারে আগ্রহ প্রকাশ করায় ভাই তিনটি বই আমাকে দিয়ে গেলেন। কানাডা: বিবিধ প্রসঙ্গ বইটাতে তিরিশজন লেখক খুব সুন্দরভাবে কানাডার বিভিন্ন বিষয়ে তাদের ভাবনা ব্যখ্যা করেছেন। এই বই নিয়ে আমার একটা লেখা বাংলামেইল পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। লেখাটা আমি প্রথমে আমার টাইম লাইনে দেই।
লেখাটা পছন্দ হওয়ায় সুব্রত কুমার দাস ভাই সেটা তাঁকে পাঠাতে বলেন এবং সেটাকে যথেষ্ট ঘষামাজা করে পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থাও করেন। এ ছাড়াও আমি টরন্টো বইমেলা থেকে বাংলাদেশ ও কানাডার উপর ভিত্তি করে মাহমুদা নাসরিনের লেখা কানাডা-বাংলাদেশ ডায়াস্পোরা নামে আরও একটা বই কিনেছিলাম। কানাডার সাহিত্য বইটার প্রতি আমার বেশ আগ্রহ ছিল। কারণ সেটা ছিল কানাডার বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান লেখককে নিয়ে। সত্যি বলতে কী আমি কানাডীয়ান লেখকদের মধ্যে শুধু মারগারেট অ্যাটউডকে চিনতাম। তাও আবার অন্য কারণে। মেয়র রব ফোর্ডের আমলে যখন টরন্টোর পাবলিক লাইব্রেরির অনেকগুলো শাখা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তখন, লেখক মারগারেট অ্যাটউড তার প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন। সেজন্য কানাডার সাহিত্য বইটা পেয়ে আমি কানাডীয়ান সাহিত্যিক এবং সাহিত্য দুটো ব্যাপারেই আগ্রহী হয়ে পড়ি। যদিও বইটা আমি খুব ধীরে পড়া শুরু করি। মাঝে নিজের কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই। তবে কানাডা সাহিত্য নিয়ে কোথাও লেখা দেখলে সেগুলোতেও চোখ বুলানো চলতে থাকে। আর এই সব তথ্যের যোগানদারের ভূমিকা নেন যথারীতি সুব্রত কুমার দাস ভাই।
রিসেন্টলি জানতে পারি সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে কানাডা সরকারের প্রেস্টিজিয়াস পুরস্কার জিজি অর্থাৎ গভর্নর জেনারেল পুরস্কারের শর্ট লিস্ট ঘোষণা করা হয়েছে। আমি আগ্রহী হয়ে উঠি। আমি আসলে কানাডার সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের জানতে চাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমি মারগারেট অ্যাটউডের ফেমাস উপন্যাস হ্যান্ডসমেইড টেল এবং তার কিছু কবিতা ডাউনলোড করেছি পড়ার জন্য। কয়েকদিন আগে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা উপলক্ষে জানতে পারি কানাডার একমাত্র নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক হচ্ছেন আলিস মানরো। আমি তার ডিয়ার লাইফ নামের গল্পগ্রন্থের বইটা জোগাড় করেছি কয়েকদিন আগে। মারগারেট অ্যাটউডের কিছু কবিতা পড়েছি। মনে দাগ কেটেছে ‘হাফ হ্যাংড মেরি’ কবিতাটা। আলবার্টা সরকার নাকি মারগারেট অ্যাটউডের বই ব্যান করেছে সেখানে! কী কান্ড! এর মধ্যে একটা ইন্টারেস্টিং ঘটনা জানতে পারি। অতীতে কানাডা সরকার এবং সাহিত্যচর্চায় দুইজন গভর্নর জেনারেল পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যককে নিয়ে দুটো ঘটনা ঘটে ছিল। প্রথমবার ১৯৭০সালে। সে সময় জিজি পুরস্কারটি জিতে ছিলেন মাইকেল ওনানদাদজে। সে সময় একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তার পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিবাদ করেছিলেন। কারণ তার গল্পের বিষয়বস্তু কানাডাকে নিয়ে ছিল না! আর অন্যজন ইয়ান মারটেল। যিনি প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপারের সাহিত্যিকদের প্রতি তাচ্ছিল্যসুলভ ব্যবহারের প্রতিবাদস্বরূপ পঞ্চাশটি বইসহ পঞ্চাশটি চিঠি তাকে আলাদা আলাদা পাঠিয়েছিলেন। আমার উইসলিস্টে এখন পর্যন্ত এই দুই লেখকের বই আছে। আমি চেষ্টা করবো ওনাদের বই জোগাড় করার। আশ্চর্যজনকভাবে দুটো ঘটনাই ঘটেছিল কনজারভেটিভ সরকারের আমলে।
আমি আপাতত এলিস মানরো এবং মারগারেট এটউড এই দুজন লেখকের বই পড়ে শেষ করতে চাচ্ছি। দরকার হলে নুতন করে আবার ডিকশনারি কিনে হলেও! ও হ্যা, কয়েকদিন আগে আমি আর একটা বই কিনেছি। এখন সেটা নিয়েই পড়ে আছি। পৃথিবীতে কতো কিছু যে জানার আছে সেটাই জানছি বই পড়ে পড়ে। তো এই হচ্ছে একজন পাঠকের পাঠক কথন।