আমার কানাডা জীবন

রেশমা মজুমদার শম্পা

জীবনের অন্য পথে জীবন বড়ো রহস্যময়ী। এর বাঁকে বাঁকে কেবল অনিশ্চিত রোমাঞ্চ। নিতান্ত সাধারণ আমার পক্ষে সেই রহস্য বোঝা দুঃসাধ্য বটে। কোনোদিন হয়তো স্বপ্নেও ভাবিনি আটলান্টিক মহাসাগর একদিন পাড়ি দিতে হবে। কিন্তু নিয়তি, সে তো অপ্রতিরোধ্য।

এমন একটা বয়সে এসে কানাডা বাসিন্দা হওয়ার আমন্ত্রণ এলো যখন আমরা স্বামী-স্ত্রী জীবনপথের মধ্যগগনে। দুজনই যার যার পেশায় মোটামুটি একটি পর্যায়ে এসে গেছি। কিন্তু কানাডার পিআর (PR) এমন এক টানপোড়েনে ফেলে দেবে আপনাকে, যা আপনি ইচ্ছে করলেও এড়িয়ে যেতে পারবেন না। অনেকে হয়তো পারেন। আমরা পারিনি। তাই অনেক বিনিদ্র রজনী নানা ভাবনায় পার করার পর ২০১৩ সালে এসে হঠাৎ-ই সিদ্ধান্ত নিলাম কানাডায় অভিবাসী হওয়ার।

শ্রাবণ মাসের প্রবল বৃষ্টির এক সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালাম। সেদিন দেশ ছাড়ার মুহূর্তটাতে আমার ভাবনা-চিন্তাগুলো আসন্ন বিদায়ের বিষন্নতায় কেমন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলে। আমি কি তবে সত্যি যাচ্ছি আমার আজন্মের চেনা শহর, নিজস্ব ঠিকানা, আমার এতদিনের চাকরি, আত্মীয়, বন্ধু-স্বজন, আপনজন আর জন্মভূমির মাটি ছেড়ে অনিশ্চিত এক অভিবাসী জীবনের পথে!

কাচের ওপারে বড়ো মেয়ে নদী আর তার বাবা গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে হাত নাড়ছে। বড়ো মেয়ের কান্না ভেজা চোখ আমার সামনের পথকে বড়ো কঠিন করে দিচ্ছে। পা কেবল আটকে যাচ্ছে। নদী মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত। এই সময়ে তার পক্ষে আমাদের সঙ্গী হওয়া সম্ভব নয়। আমার স্বামীও নিজের কাজ তখনও গুছিয়ে শেষ করতে পারেননি। তাই আমাকে দুই সন্তান নিয়ে কানাডার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হলো।

সামনে ৩৬ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা। দুই ছেলে-মেয়ের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছি। আমার ভ্রমণসঙ্গী পুত্র-কন্যার মুখ আনন্দ উৎসাহে উজ্জ্বল। তারা নতুন দেশে অভিবাসী হওয়ার সুখস্বপ্নে যেন আপ্লুত। কিশোর বয়সের ধর্মই হলো নতুনের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ আর নতুনকে জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তাদের আনন্দ দেখে প্লেনের সিটে বসে নিজেকে মন খারাপের ঘেরাটোপ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করলাম। রবি ঠাকুরের একটি কবিতার কয়টা লাইন মনে এলে একটু নড়ে-চড়ে বসলাম।

ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।

এলাম নতুন দেশে- টরন্টো, কানাডা
প্রায় দেড়দিনের আকাশপথ পেরিয়ে এসে নামলাম ঝকঝকে তকতকে টরন্টো পিয়ারসন ইন্টারন্যাশানাল এয়ারপোর্টে। কিছু আনুষ্ঠানিকতা এবং নীল চোখের গোমড়ামুখো একজন মহিলা ইমিগ্রেশন অফিসারের সামনে কঠিন কিছু প্রশ্ন উত্তরের পালা সফলতার সাথে সম্পন্ন করে আমরা এয়ারপোর্টের বাইরে এসে দাঁড়ালাম। কানাডায় সামার এখন।

কানাডার অন্যসতম বৈচিত্র্যময়, প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর অন্টারিও প্রদেশের রাজধানী মোহময়ী টরন্টো শহর তার গাঢ় নীল আকাশ, সোনালি রোদ, চারিদিকের গাছ-গাছালির সবুজ স্নিগ্ধতা থেকে বয়ে আসা মৃদু-মন্দ মিষ্টি হাওয়া দিয়ে যেন আমাদেরকে অভিবাদন জানালো- ‘এসো আমার ঘরে এসো’।

মিশন- নতুন ঠিকানা আর বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি
টরন্টোর উত্তরে বিশাল বনভূমি আর পূর্বে অবস্থিত বাঙালি অধ্যুষিত স্কারবোরো এলাকা। আমাদের পারিবারিক বন্ধু, কানাডার নাগরিক প্রকৌশলী রশিদ ভাই ও ভাবির সুপরামর্শে আমাদের নতুন ঠিকানা হলো স্কারবোরো ব্লাফস এলাকার ২৫৫০ কিংসস্টোন অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং-এর একটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে। এবার মেয়ে অর্না আর ছেলে শাফিনের স্কুলে ভর্তির আনুষ্ঠানিকতা সারতে হবে। বয়স অনুযায়ী অর্না ইলেভেন গ্রেড আর বাসার ঠিকানা অনুযায়ী ওর হোম স্কুল হিসেবে সে পেয়েছে আর এইচ কিং উচ্চ বিদ্যালয়।

এবার ছেলের স্কুল সমাধান। পরের দিন সকাল সকাল আমাদের বাসার একেবারে হাঁটার দূরত্বে শাফিনকে নিয়ে হাজির হলাম পাড়ার স্কুল জন এ লয়েলেসলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কাগজপত্র অফিসে জমা দেওয়ার আধঘণ্টার মধ্যেই ছেলেকে তার বয়স অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণির ক্লাসে পাঠিয়ে দিলো।

আহা, স্কুলে ভর্তি কী সহজ আর সুন্দর এখানে! আরও আনন্দের বিষয় হলো- অল্পদিনের মধ্যেই ছেলে-মেয়ে দুইজন আনন্দের সাথে তাদের স্কুলে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিল।

কানাডায় আমার ছাত্র জীবন
আমার অভিবাসী জীবনের শুরুটা হয়েছিল অনেকের মতোই, এক ধরনের অনিশ্চয়তা নিয়ে। পড়াশোনা শেষ করার পর থেকে কানাডা আসার আগ-পর্যন্ত আমি ছিলাম একনিষ্ঠ চাকরিজীবী। মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক। একা একা দুই ছেলে মেয়ে-সহ খুব দুশ্চিন্তা নিয়ে দিনগুলো পার করছি তখন। আমার স্বামী সালাম সাহেব তাই দেরি না করে নিজের কাজ গুটিয়ে নিয়ে চলে এলেন কানাডাতে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই ভাবনা-চিন্তা করে ঠিক করলাম যার যার নিজস্ব বিষয়ে পড়াশোনায় নেমে পড়বো। কী আর করা! ‘যস্মিন দেশে যদাচার।’

ভাবা যায়, ৫০ বছর বয়সে নতুন করে ছাত্রী হওয়া! তবে দেশটা কানাডা বলেই তা সম্ভব। স্কারবোরোর প্রগ্রেস এভিনিউতে অবস্থিত একটি প্রাইভেট কলেজ- অক্সফোর্ড কলেজে ক্লিনিক্যাল রিসার্চ-এ এক বছরের একটি পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স করার সিদ্ধান্ত নিলাম। সমস্যা হলো, বেশ বড়ো-সড়ো টিউশন ফি কে দেবে?

সেই ব্যবস্থাও কানাডাতে বর্তমান। টিউশন ফি দেবেন গৌরি সেন। অন্টারিও স্টুডেন্ট এসিসটেনস প্রোগ্রাম (The Ontario Student Assistance Program-OSAP)। এই গৌরি সেন আমাদেরকে শর্তসাপেক্ষে ঋণ দেবেন। প্রথম দিনেই লেক অন্টারিওর নীল জলে, মনে মনে শিক্ষিকার তকমাটি ফেলে দিয়েছিলাম। পুরোপুরি ছাত্র জীবন শুরু হলো।

কানাডা দেশকে তুলনা করা হয় সুদৃশ্য একটি মিশ্রণ টব (melting pot)-এর সাথে। যে দেশে শত দেশের শত জাতির লাখ মানুষ এসে মিশেছে এক মাটিতে। অক্সফোর্ড কলেজে আরেকবার তার প্রমাণ পেলাম। আমরা ৪৫ জন ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন দেশ থেকে এসে ক্লাসে হাজির হয়েছি। এ যেন বহুসংস্কৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ!

এদিকে প্রকৌশলী সালাম সাহেব তার দেশের বুয়েটের মাস্টার্স ডিগ্রি এবং লম্বা চাকরির অভিজ্ঞতা ঝুলিতে থাকা সত্ত্বেও এই দেশের নিয়ম অনুযায়ী রায়ারসন ইউনিভার্সিটির (Ryerson University) মাস্টার্সের ছাত্র হলেন।

বাসায় আমরা চারজনই ছাত্র। চারটি পড়ার টেবিল বাসার এদিক-ওদিকে। বই-খাতার স্তূপ চারিদিকে। সে একদিন গেছে বটে!

প্রথম তুষারপাতের অভিজ্ঞতা
আমরা একদিন বিকেলের দিকে ফিরছিলাম হেঁটে হেঁটে পাশের নো ফ্রিলস গ্রোসারির দোকান থেকে। হঠাৎ মুগ্ধ বিস্ময়ে অবলোকন করলাম মুক্তো দানার মতো শুভ্র সাদা তুষার কন্যারা অঝোর ধারায় ঝরছে আকাশ তলের কোনো এক রুপার কৌটা থেকে। নরম তুলার মতো তাদের স্পর্শ। আনন্দ আর আবেগে আমরা চারজন প্রথমবারের মতো বরফ বৃষ্টিতে ভিজতে লাগলাম। কী অপূর্ব সেই অনুভূতি! মুঠো মুঠো বরফ কুচি সারা শরীরে মেখে অপূর্ব এক ভালোলাগায় মন ভরে ওঠলো। নিমিষেই সামনের রাস্তা ঘাট, বাড়ির ছাদ, মাঠ, গাড়ির ছাদগুলো বরফের চাদরে ঢেকে গেল। পাতাহীন গাছের ডালগুলোতে তুষার কন্যারা জুঁই ফুলের মতো ফুটে রইলো।

রূপসী রঙিন টরন্টো
এখানে একটা কথার খুব চল আছে- এপ্রিলে বর্ষণ আর মে মাসে ফুলের সমারোহ। বরফের দিনের শেষে গাছের পাতারা যখন একটু একটু করে সবুজ হতে শুরু করে বসন্ত তখন কড়া নাড়ে টরন্টোবাসীর দ্বারে দ্বারে। ফুল ফল সবজি চাষের উৎসবে মেতে ওঠে মানুষজন। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকেই নানারঙের টিউলিপ ফুলের প্রস্ফূটিত সৌন্দর্য মন কেড়ে নেয়।

ফল (Fall)-এর দিনগুলো
অক্টোবর মাস, যা কানাডার ‘ফল ঋতু’ কাল। কানাডার লক্ষ কোটি গাছ-গাছালির পাতারা তখন সবুজ থেকে কমলা, লাল, হলুদ, মেরুন বা চকলেট রঙে সেজে ওঠতে থাকে। ম্যাপল, ওক, পাইন, মালবেরি গাছগুলোতে ফল-এ যেন রঙের আগুন লেগে যায়।

রঙিন গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে অতীত কালের বিখ্যাত কবি জ্ঞানদাসের কবিতার দুটি চরণ মনে পড়ে-

রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেলো।

এবার চাকরির মাঠে নামা
অক্সফোর্ড কলেজের পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি অর্জনের দুটো ধাপ। নয় মাসের থিওরি পর্ব আর কোনো হাসপাতাল বা রিসার্চ সেন্টারে ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের আওতায় তিন মাসের প্লেসমেন্ট। থিওরি পর্ব তো তরলে-গরলে বেশ পাস করে ফেললাম। প্লেসমেন্ট পাওয়া কেন যে আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে গেল, বুঝলাম না।

হতাশা নিয়ে দিন পার করছি। এরকম একটা সময়ে পরিচিত একজন বন্ধু, ডা. আলমগীর ভাইয়ের ফোন নাম্বার দিয়ে ওর সাথে কথা বলার পরামর্শ দিলেন। আলমগীর ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করামাত্র উনি আন্তরিকতার সাথে আমার সমস্যা শুনলেন এবং উনার অফিসে দেখা করার জন্য সময় দিলেন। ডা. আলমগীর ভাই কানাডাতে তখন এক্সেস এলায়েনস (Access Allianc-multicultural Health and Community Services) প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি ও একাউন্টিবিলিটি সিস্টেম ম্যানেজার।

ডা. আলমগীর ভাই আমাকে এক্সেস এলায়েনসে রিসার্চ বিভাগে তিন মাসের একটি প্লেসমেন্টের ব্যবস্থা করে দিলেন। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার অন্ত নাই। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার তিন মাসের সময়টি ছিল অতি আনন্দের এবং অমূল্য অভিজ্ঞতার আলোকে আলোকিত। এক্সেস এলায়েনস কাজ করে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসী ও বাস্তুহারাদের স্বাস্থ্য, বাসস্থান, সামাজিক উন্নয়নসহ বিবিধ সমস্যা এবং তার সমাধান নিয়ে।

কত শত জাতি-ধর্ম-ভাষা ও বর্ণের মানুষের সাথে প্রতিনিয়ত এখানে আমার দেখা ও পরিচয় হয়েছে! চমৎকার একটি পরিবেশে কাজ করতে পেরে তরুণ কালের উদ্যাম ও উৎসাহ যেন ফিরে এলো জীবনে। তিন মাস খুব দ্রুতই ফুরিয়ে গেলো।

আমার মেডিকেল সনোগ্রাফার অধ্যায়
কানাডার চিকিৎসকদের লাইসেন্স পরীক্ষার দীর্ঘ ও বন্ধুর পথে যাওয়া আমার জন্য খুব বাস্তবসম্মত মনে হলো না। আবার রিসার্চ বিষয়ে চাকরিও অধরা হয়ে রইল আমার জন্য। আমার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ক্লাসমেট নিপার বাসায় এক দুপুরে টরন্টো শহরে প্র্যাকটিস করছে এমন সনোগ্রাফারদের এক মিলন মেলায় আমি হাজির ছিলাম। নিপা টরন্টোতে সনোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছে কিছুদিন হলো। নিপা এবং কান্তা দুজনের (তারা দুজনই বাংলাদেশে রেডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ছিল) উৎসাহ ও পরামর্শে আমি বেশ আগ্রহান্বিত হলাম রিসার্চ থেকে সরে এসে সনোগ্রাফির নতুন অধ্যায় শুরু করার ব্যাপারে। আবার শুরু হলো পড়ালেখার পালা। দিন যায়, পড়া থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম একটি শাখা এই আল্ট্রাসনোগ্রাফি। চিকিৎসক হিসেবে প্রায় সবকিছুই আমাদের জানা, শুধু নতুন করে আবার ঝালাই করে নেওয়া। তবে খুব সহজ নয়।

অবশেষে ডায়াগনস্টিক মেডিকেল সনোগ্রাফার হিসেবে কানাডায় প্র্যাকাটিস করার লাইসেন্সটি পেয়ে গেলাম। আর বন্ধু নিপার সুপারিশে তার ক্লিনিকে আমার সনোগ্রাফার হিসেবে চাকরি হয়ে গেল। সেদিন মনে হলো- গান গেয়ে ওঠি ‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি টরন্টোবাসী, শুনছো।’

হৃদয়ে বাংলাদেশ
একটি দেশের আত্মা ঠিক কোথায় অবস্থান করে! আমার মনে হয় তার ভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, নিজস্ব পোশাক, খাবার আর উৎসবে। আমরা দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকে মন ও মননে ধারণ করি আমার দেশ আর দেশের আত্মা। টরন্টো হলো বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে কানাডার মাটিতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য টরন্টো শহরের নিবেদিতপ্রাণ কিছু মানুষ নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। সুব্রত কুমার দাস দাদা তার লেখার মাধ্যমে কানাডিয়ান সাহিত্যকে আমাদের বাঙালি কমিউনিটির কাছে পরিচিত করে তুলেছেন।

টরন্টোর এক অনুষ্ঠানে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য হলো প্রখ্যাত লেখক, গবেষক, সাহিত্যিক এবং এনআরবি টিভির জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক সুব্রত কুমার দাস দাদা এবং তাঁর সহধর্মিণী নীলিমা বৌদির সাথে। লেখালিখির অভ্যাস আমার কিশোর কাল থেকেই রয়েছে। কানাডায় এসে লেখালিখির খুব সুযোগ পাইনি তেমন। সুব্রত দাদার উৎসাহে আমার বেশ কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হলো কানাডার অন্যতম জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বাংলামেইল পত্রিকায়। উনি কানাডার নতুন লেখকদেরকে নিরলসভাবে অনুপ্রাণিত করে থাকেন। তাঁদের লেখা প্রকাশ করার জন্য সর্বান্তকরণে সাহায্য করে থাকেন।

২০২৪ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সুব্রত কুমার দাস সম্পাদিত কানাডা নিয়ে লেখা ‘কানাডা: বিবিধ প্রসঙ্গ’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে যেখানে কানাডার ৩০ জন বাঙালি লেখকের মধ্যে আমার লেখা একটি প্রবন্ধও রয়েছে। এটি আমার কানাডা জীবনের একটি প্রাপ্তি।

আমরা তুমুল বরফপড়া দিনেও সাদা-লাল শাড়ি পরে পান্তা ইলিশ খেয়ে বন্ধু-স্বজন নিয়ে ঘরের মধ্যে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করি। রাত বারোটায় তীব্র শীত উপেক্ষা করে ২১ ফেব্রুয়ারিতে যাই আমাদের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে। ডেনটোনিয়া মাঠে পুরো টরন্টো শহরের আপামর বাঙালির সাথে আমরাও শামিল হই ঈদের জামাতে। হৃদয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আমার দেশ- আমার গৌরব এবং অহংকার।

কানাডা আমার আনন্দ-বেদনার কাব্যগাথা। ভালোবাসি অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার আমার দেশ কানাডাকে। কানাডা দুই হাতে আগলে রেখেছে আমাদের মতো অভিবাসী কোটি মানুষকে- নিরাপত্তা, মমতা আর উন্নত বিশ্বের সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে। কানাডিয়ান বাংলাদেশি হিসেবে গর্ব অনুভব করি।

লেখক পরিচিতি
ছোটোবেলা থেকেই সাহিত্যের এক অনুরাগী পাঠক। চিকিৎসক ও লেখক মা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ১৯৫০ দশকের মঞ্চ নাট্যকর্মী অ্যাডভোকেট বাবার ছায়ায় বেড়ে ওঠা শম্পা কৈশোর থেকেই কবিতা, গল্প এবং প্রবন্ধ লেখালেখিতে সময় পার করতেন। প্রবাসী-জীবনেও চিকিৎসক এবং অধ্যাপক শম্পা নিয়মিত লেখালেখি করছেন। সাপ্তাহিক বাংলা মেইল এবং অনলাইন প্রথম আলো পত্রিকায় তার বেশ কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে।