বাংলা মিডিয়া, প্রবাসজীবন এবং কানাডার এথনিক সাংবাদিকতা
বাংলাদেশে দীর্ঘ সাংবাদিকতা ও নির্মাণশিল্পের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছিল সত্যকে অনুসরণ করতে হয় হৃদয় দিয়ে, আর তার বিশ্লেষণ করতে হয় যুক্তি দিয়ে। কিন্তু কানাডায় এসে প্রথমবার উপলব্ধি করলাম …
বাংলাদেশে দীর্ঘ সাংবাদিকতা ও নির্মাণশিল্পের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছিল সত্যকে অনুসরণ করতে হয় হৃদয় দিয়ে, আর তার বিশ্লেষণ করতে হয় যুক্তি দিয়ে। কিন্তু কানাডায় এসে প্রথমবার উপলব্ধি করলাম …
সেই কবে এসেছিলাম এদেশে, চোখে আশার আলো, আর অল্প বয়সের অজস্র স্বপ্ন বুকে নিয়ে! প্রথম পদক্ষেপ, মন্ট্রিয়লের বিমান বন্দর ডর্ভালে, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ২রা এপ্রিল। শীত সে বছরের মতো বিদায় নিয়েছে।
কানাডা কেমন দেশ? শান্তির, আনন্দের, সুখের, নিরাপত্তার, সমৃদ্ধির? নাকি সবকিছুকে মিলিয়ে এক করে বলে দেওয়া যায় এটা নির্ভরতার দেশ। কিসের নির্ভরতা, কেমন নির্ভরতা? সত্যি করে বলতে গেলে…
কানাডা পৃথিবীর উন্নত ও সুশৃঙ্খল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি দেশ। এদেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও তেমনি উন্নত এবং প্রশংসনীয়। কানাডাতে দশটি প্রদেশ এবং তিনটি টেরোটরি রয়েছে।
সময়টা ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাস। আমার প্রথম বিদেশে আসা। তাও আবার জীবন-যাপনের জন্য। কখনও এমন নিজদেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবি নাই। কিন্তু কপালের লেখায় প্রবাস জীবন এড়ানো সম্ভব হয়নি।
আমরা ছোটোবেলায় একটা কথা শুনেছি, তা হচ্ছে দেশের ঠাকুর আর বিদেশের মজদুর। অর্থাৎ দেশে যে ব্যক্তির অবস্থান ঠাকুরের মতো, সে কিনা বিদেশে গেলে থাকতে হবে মজদুরের মতো।
বিগত শতাব্দীর শেষ দু-দশক আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণার কাজে গভীরভাবে নিয়োজিত। অবশ্য কতকগুলো বই ধার নিয়ে ঘরে বসে আরেকটি নতুন বইয়ের জন্ম দেওয়ার কাজটি করার অভ্যেস আমার…
১২ এপ্রিল! মন্ট্রিয়ল-এর আকাশে শেষ বিকেলের রোদ উঁকিঝুঁকি দিয়ে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে! ফরাসি সংস্কৃতি সমৃদ্ধ বর্ণিল শহরের সেই আকাশকে আমার মনে হয়েছিল এক অনন্তের সম্ভাবনাময় নতুন এক পৃথিবী!
মানুষ পরিবর্তনশীল, জীবন পরিবর্তনশীল, জীবনের গতি আর ধারাও পরিবর্তনশীল। জীবন বিবর্তিত হচ্ছে তার নিজস্ব গতিবেগে, আমরা কেবল ঘূর্ণিত হয়ে চলেছি সময়ের মোহনায়, জীবনের তাগিদে।
“হাউ মাচ ইজ দিস?” ক্যাশ কাউন্টারের ওপর একটা এক লিটারের দুধের কার্টুন রেখে আমি জিজ্ঞাসা করলাম। আমার হাতে গোঁজা কুড়ি ডলারের নোট দেখতে পেয়ে, নাকি আমার মুখ চোখে ফুটে ওঠা দ্বিধা…
অনেকদিন শহুরে জীবনে থাকার পর হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম, মাটির কাছে থাকলে কেমন হয়। মাটির কাছে থাকা- কথাটা কেমন অদ্ভুত, তাই না? কানাডায় শহরের জীবনেও বাড়িগুলো এমনভাবে…
কানাডায় স্থায়ী নিবাস গড়ার স্বপ্ন দেখে না, এমন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিশ্বে যত দেশ, যত জাতি- সর্বত্র কানাডার মনের গভীর থেকে “আয়! আয় রে আয়!” ডাক পৌঁছে যাওয়া অসম্ভব কিছু না।
২০১৭ সাল। আমার ছোটো ছেলে মুহতাসিন আহমেদ, যাকে আমি আদর করে তাসিন ডাকি; সে তখন ক্লাস ওয়ানে পড়ে। একদিন স্কুল থেকে ফিরে একটা ছোটো কাগজের ব্যাগ আমার হাতে দিয়ে বললো
গত শতাব্দীর শেষবেলায় বাংলাদেশ থেকে টরন্টো শহরে এসে হঠাৎ করে বুঝতেই পারিনি যে আমি বাংলাদেশের বাইরে কোথাও এসেছি। রসোম রোডে বরের বন্ধুর বাড়িতে ওঠে দেখি চারদিকে বাঙালি আর বাংলা …
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কানাডা আমার ঠিকানা। এই দেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, শীতলতা, সুযোগ, সংবেদন, নিঃসঙ্গতা আর সম্ভাবনার সাথে জড়িয়ে গেছে আমার জীবনের প্রতিটি স্তর। বাংলাদেশে আমার …
প্রতিটি মানুষের একটা গন্তব্য থাকে। আর এই গন্তব্যটি তৈরি হয়ে থাকে চারপাশের পরিবেশ দ্বারা। অনেক সময় দেখা যায় যে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। এর প্রধান কারণ হয়তো সে নিজেই…
আমরা, চারজনের পরিবার (দিলীপ, আমি, দুই কন্যা ঝুমরি আর ঝিলাম), কানাডায় এসেছি ২০০০ সালের ৪ঠা জুলাই। আজ ঠিক ছাব্বিশ বছর অতিক্রান্ত। শিক্ষা, কার্যসূত্র, রাজনৈতিক অ্যাসাইলাম ইত্যাদি কারণ…
আটলান্টিক আর প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম যে দেশটি বছরের অধিকাংশ সময়ই শীতের চাদরে ঢাকা থাকে সেই দেশটির নাম কানাডা। আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী এই ভূমিতে তাঁদের…
বসবাসের জন্যে শ্রেষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে কানাডা একদম ওপরের দিকে বলে গণ্য করা হয়। জনগণের প্রয়োজনগুলো পূরণে তারা যথেষ্ট আন্তরিক। এদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা যথেষ্ট প্রশংসনীয়।
পৃথিবীর মানচিত্রে বিশাল এক শুভ্র ছোপ কানাডা। কানাডার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অসম্ভব শীতল আবহাওয়া, মানবিক সমাজব্যাবস্থা, অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা, স্বল্প জনসংখ্যা এবং উন্নত প্রযুক্তির কারণে …
রাজনীতি এমন একটা বিষয়, আমরা কেউ-ই তার বাইরে নই। কথায় আছে, আমরা কেউ রাজনীতির টেবিলে, আর কেউ মেনুতে, কিন্তু আছি কোনো না কোনো ভাবে। আমি যখন কানাডায় আসি ২০০৬-এর…