চলো পয়সা খুঁজি
পয়সার কথা বলতেই যা সচরাচর মনে আসে, তা হলো- ভালো একটা চাকরি পাওয়া। বিষয়টি সহজ ছিল না, যখন ঢাকা ভার্সিটি থেকে অনার্স পাস করলাম। পদার্থবিদ্যা, যা অনেকের কাছে খটখটে বিষয় বলে পরিচিত সেই পদার্থবিদ্যায় আর রসায়ন ও অংক সাবসিডিয়ারি নিয়ে চাকরির প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্ণ হলাম। ঢাকা শহরের কোচিং সেন্টারগুলো আমাদের মতো ছাত্রদের এক বিশাল ইকোনমিক হেল্পার বলা যায়। আমিও সেই হেল্পার গাড়িতে ওঠে বাবার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার সুযোগ পেয়েছিলাম। ফলে মাস্টার্স পাস করে আর বাবার ইকোনমিক ভাণ্ডারে তাকাতে হয়নি। এমফিল-এ এসে স্বর্গবাসী অজয় স্যার আমাকে বোস সেন্টার থেকে ফেলোশিপ-এর ব্যবস্থা করতে সাহায্য করেছিলেন। অনেক কৃতজ্ঞতা তাঁর কাছে আমার। তারপর মনোবুশো স্কলারশিপ পেয়ে জাপান চলে গেলাম। সেক্ষেত্রে আল্লাহর অশেষ রহমত ও শ্রদ্ধেয় ওবায়দুল ইসলাম স্যারের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। আসলে চিরকৃতজ্ঞতা সকল স্যারের প্রতি। স্কুল থেকে শুরু করে ইউনিভার্সিটি এবং জাপানের প্রফেসর ও কানাডার ইউনিভার্সিটি প্রফেসরদের প্রতি।
ভাবি, সময় মানুষকে বদলে দেয় কীভাবে? কানাডা এসে চাকরির জন্যে এদেশের জব মার্কেট বুঝতে কিছুটা সময় নিয়েছিল বটে, তবে সৌভাগ্যবান হয়েছিলাম যে, সরকারি চাকরি পেয়ে গিয়েছিলাম একটা বেসরকারি চাকরি থাকা অবস্থায়। এক্সিবিশন প্লেস-এ জব প্লেসমেন্ট প্রোগ্রামে বিশাল এলইডি (LED) লাইটিং ও সোলার প্রজেক্ট ছিল আমার জন্য এনার্জি সেক্টরে প্রবেশের মূল মন্ত্র। টরন্টোতে এক্সিবিশন প্লেসকে বলা হয় টরন্টোর গ্রিন এনার্জি হাব। সেটা থেকে বেসরকারি চাকরি সোলার সেক্টরে পরে আবার সিটি গভর্নমেন্টে প্রবেশ হলো। ফলে একযুগেরও বেশি এই এনার্জি সেক্টরে লোকাল গভর্নমেন্টের সাথে আছি নানারকম এনার্জি এফিসিয়েন্ট প্রজেক্ট নিয়ে আর অভিজ্ঞতার ঝুলি যথেষ্ট লম্বা হলো সেই সুবাদে।
এবার দেখি, কোথায় কোথায় পয়সা পড়ে আছে? এই সেক্টরে, নিয়মিত ঘর সংসারে কতটুকু, আর কর্মক্ষেত্রে কতটুকু? এক্ষেত্রে লো হ্যাঙ্গিং ফ্রুইটস কাকে বলে এবং কী কী, সেগুলো জানা দরকার। কীভাবে আপনি আপনার পরিবার নিয়ে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে এনার্জি ও পানি সেভিংস-এ আপনি অভ্যস্ত হয়ে ওঠবেন? অভিনব কোনো উপায় অথবা উদ্ভাবন আপনার প্রয়োজন আছে কি নেই এক্ষেত্রে, সেসব নিয়ে কথা বলবো।
ধরুন, আপনি বসবাস করেন ডিটাচড হাউসে। বেসমেন্ট, গ্রাউন্ড ফ্লোর এবং সেকেন্ড ফ্লোর আছে আপনার বাড়িতে। তিনটি ফ্লোরে আপনি এনার্জি কস্ট কমাতে চান, খুঁজছেন উপায়। দেখুন, কত সহজ সেই উপায়গুলো আপনি পেতে পারেন। পানির খরচ, যা কি না ইউটিলিটি খরচের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল, তা নিয়ন্ত্রণ করার সহজ একটা উপায় হলো কিচেনে ফোসেট বা পানির ট্যাপ যা আছে তার ফ্লো রেট বা প্রবাহ মূল্য কমানো। প্রশ্ন হলো, কীভাবে এই কাজটা করবেন? নতুন কিছু টুলস অথবা মেকানিজম অথবা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস দরকার হবে কি না? পরামর্শ হলো কস্ট এফেক্টিভ অর্থাৎ কম মূল্যে কী করা যায়, যা খুবই কম ইনপুট অথচ বেশি আউটপুট অথবা আউটকাম পাবেন। চিন্তা করতে হবে, কোন সময়টা বেশি উপযুক্ত। ফোসেট পরিবর্তন করবেন, যখন মনে হবে অনেক বছর হয়ে গেছে ও নিউ ফোসেট কেনা দরকার, তখন লো ফ্লো এনার্জি এফিসিয়েন্ট ফোসেট কিনে সে কাজটা করে নিতে পারেন এবং এক্ষেত্রে আপনি মার্কেটে শপিং এরাউন্ড করে দেখবেন কোন কোম্পানিগুলো এই সার্ভিস অফার করছে আবাসিক বাড়ির ক্ষেত্রে। সাধারণত, যে সিটিতে আপনি বসবাস করবেন তাদের মাধ্যমে এই তথ্য সহজে পেয়ে যাবেন। যদি টরন্টো শহরে বসবাস করেন তবে ৩১১ কল করে অথবা সিটি মেয়র অফিস এ কল করে অথবা নিজে সশরীরে গিয়েও তথ্য পেতে পারেন। ওয়েব সাইট যা গুগল সার্চ, বিং সার্চ অথবা যেকোনো সার্চ ইঞ্জিন-এ তথ্য পাওয়া সম্ভব।
ফোসেট পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। এই সাথে টয়লেট ফ্লাশ-এর পরিবর্তনের কাজটাও সেরে নিতে পারেন। আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্লাশ মেথড হলো হাফ ও ফুল ফ্লো অপসন যোগ করা। ছোটো কাজে ছোটো ফ্লাশ আর বড়ো কাজে বড়ো ফ্লাশ বা ফুল ফ্লাশ প্রয়োগ করবেন। গোসলের ঝর্ণা অর্থাৎ শাওয়ারহেডও এই দীর্ঘ মেয়াদি এবং আধুনিকায়নের অংশ হবে এক্ষত্রে আপনার বাড়িতে। সবগুলো পরিবর্তনই আপনি কন্ডো, টাউন হাউস, সেমি-ডিটাচড, কো-অপারেটিভ, স্টাক হাউস মালিকানায় থেকেও করে নিতে পারেন।
এবার আসুন পানির ক্ষেত্রে ছোটো মাত্রার বা শর্টটার্ম পরিবর্তন ও তার অতি সহজ পন্থাগুলো কী কী, সেটা জেনে নেওয়া যাক। ধরুন, আপনি পরিবারের কাপড় পরিষ্কারের কথা ভাবছেন। সেজন্য ওয়াশিং মেশিন মনে হলো আর অমনি কাপড় লোড করে মেশিন চালু করে দিলেন। সময় যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর তা আপনি ভাবনায়ও নিলেন না। সেটা খুবই খারাপ হলো, আপনার অর্থনীতি ও মান্থলি বাজেট চিন্তা করলে। আরো খারাপ হলো যখন মাস শেষে ও বছর শেষে খরচ চিন্তা করলে। বরং আপনার ভাবা দরকার ছিল এরকম যে, আপনি ভাবুন কোন সময়টা পানি ব্যবহারের ডিমান্ড অর্থাৎ চাহিদা যাকে বলি সেটা কম ও বেশি সেটা। যদি এই বিষয়টা আপনি মাথায় রাখেন তাহলে সঠিক সময়টা হবে যখন চাহিদা কম সে সময়টা বেছে নেওয়া। বেছে নিন উইকেন্ড সময়, তারপর উইকেন্ডগুলোতে রাত ১০টার পর, সকালে পিক আওয়ার ৭টা থেকে ৯টা সময়টা এভোইড করা, টাইম অব ইউস (TOU), পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার হার আবাসিক এলাকায় ইত্যাদি বিষয়গুলো।
এত গেল মূলত পানি ব্যবহার প্রসঙ্গ। এবার চলুন দেখি বিদ্যুৎ বা ইলেকট্রিসিটি খরচ কমানো যায় কীভাবে। চিন্তা করুন আপনার বাড়িতে কোন কোন যন্ত্রপাতি, মেশিন, ডিভাইসেস কতটা ইলেট্রিসিটি খায় বা কোনসুম (consume) করে। ওয়াশিং মেশিন, ডিস্ ওয়াশার, ওভেন, মাইক্রোওয়েভ, রেফ্রিজেরেটর, বাড়ির সব লাইট বাল্বগুলো, সব কম্পিউটারগুলো, ফোন ডিভাইসেস, টিভি, পোর্টেবল হিটার, হিউমিডিফায়ার ইত্যাদি যা যা ইলেকট্রিসিটি কানেকশন নিয়ে চলে, সেগুলো কতবার ও কতক্ষণ ব্যবহার করেন সাধারণত আপনি অথবা আপনার পরিবারের লোকজন, সেটার একটা এস্টিমেট (estimate) করে ফেলুন। বেশি পাওয়ারের আইটেমগুলো আপনি অফ পিক ও পিক, ডিমান্ড টাইম ও লেজি টাইম চিন্তা করে ভাগ করে নিন। তারপর সেগুলো ডিমান্ড যখন কম সে সময়গুলোতে ব্যবহার করুন। রান্নার কাজে ওভেন, ডিশ ওয়াশার লোড, ওয়াশিং মেশিন এই ধরনের আইটেম আপনি অবশ্যই সময়ে চিন্তা করে করবেন তাতে আপনি কম করে হলেও দশ থেকে পনেরো (১০-১৫%) পারসেট খরচ কমাতে পারবেন।
ফ্যান কোয়েল ইউনিট যা আপনার বাড়িতে এয়ার সার্কুলেশন-এ ব্যবহৃত হয়, ফ্লোর হিটার অথবা হাইড্রোনিক হিটার যা ইলেকট্রিসিটি কানেক্টেড সেগুলো মোশন সেন্সর-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা সম্ভব। ঘরের মধ্যে মোশন সেন্সর বসানো যায়, যা মানুষ থাকলে তার মুভমেন্ট থেকে গরম এবং ঠান্ডা কোনটা সাপ্লাই দিতে হবে নির্ধারণ করে নিতে পারে। লাইট বাল্ব এর ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করে আপনার বাড়িতে এমন সুইচ ইনস্টল করে নেওয়া। পরিবারের সদস্যদের এনার্জির সব কম্পোনেন্ট সম্পর্কে যতটা সম্ভব ঘরোয়া আলোচনার মাধ্যমে শেখানো, সোশ্যাল মিডিয়ার হেল্প ইত্যাদি সরকম সহজলভ্য পন্থায় খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব যদি একটু সময় নিয়ে আপনি চিন্তা করেন।
এবার আসুন গ্যাসের প্রসঙ্গ। সত্যি বলতে, মনে পড়লে খুবই খারাপ লাগে সেই দৃশ্যগুলো যখন দেখতাম আত্মীয়-স্বজন ঢাকা শহরে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রান্নার পর কাপড় শুকানোর কাজেও চুলা জ্বালিয়ে রেখেছে আর দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। কোনো গ্যাস মিটার ছিল না তখন লক্ষ্য করেছি দেশে। আহা, কী অপচয়!
জাপানে থাকা অবস্থায় এবং কানাডাতে এসে দেখছি ও জানছি, কত মূল্যবান এসব প্রাকৃতিক সম্পদ। রেগুলেটেড করা হয়েছে প্রতি কিউবিক মিটার গ্যাস ব্যবহার। রেগুলেটেড করা আছে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারও এসব দেশে। এমনকি আবর্জনার ব্যবহার এবং তা থেকে উৎপাদিত এনার্জি উৎপাদনের পদ্ধতিগুলো।
কানাডার মতো শীতপ্রধান দেশে বাড়ির ক্ষেত্রে শীতের সময়ে গ্যাসের খরচ অনেক বেশি হয়। কারণ, পুরো বাড়ি গরম করতে গ্যাসচালিত ফার্নেস, বয়লার, ফ্যান কয়েল ইউনিট, যেসব যন্ত্রপাতি মেকানিক্যাল ও ইলেক্ট্রিক্যাল কাজে প্রয়োগ করে অফিস-বাড়ি-ঘর গরম করে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ স্বাভাবিক ও চলমান রাখা হয়। এনার্জি প্রফেশনাল হিসেবে আমরা এগুলোকে বলি স্পেস হিটিং খরচ। এক্ষেত্রেও সেন্সর বেসড রেগুলেটর ও টাইম অফ ইউস (TOU) রেট প্রয়োগ করা একটি উপযুক্ত উপায়।
এদেশে বড়ো বড়ো মেকানিক্যাল মেশিনগুলো যেমন গ্যাসচালিত বয়লার ও পাম্প, যা বিল্ডিং-এ হিটিং, কুলিং, পানি ওপরে ওঠানো, নামানো, এলিভেটর চালানো, স্নো মোবাইল মেশিন চালানো ইত্যাদি কাজে টেকনিক্যালি ব্যবহার করা হয় সেগুলো খুবই সীমিত পরিসরে কিউবিক মিটার ও লিটার এককে পূর্ব নিয়ন্ত্রিত উপায়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে যতটা সম্ভব অপারেশনাল কস্ট অপচয় কন্ট্রোল করা সম্ভব হচ্ছে।
এবার বলবো ব্যক্তিজীবনে সবগুলো এনার্জি কীভাবে টুকরো টুকরো উপায় প্রয়োগ করে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ছোটো ছোটো কাজ, কিন্তু অনেক পয়সা বাঁচানো যায়। শীতের সময় আপনি কয়েক লেয়ার কাপড় পরতে পারেন, ভালোমতো দরজা জানালা বন্ধ রাখতে পারেন, বাড়ির হিটিং ও কুলিং সিস্টেম অটোমেশন নেটওয়ার্ক করে নিতে পারেন, জানালায় মোটা পর্দা ব্যবহার করতে পারেন উত্তাপ প্রতিফলন প্রতিসরণ কন্ট্রোল করে, এনার্জি স্ট্রার ব্র্যান্ড ইকুইপমেন্ট ইনস্টল করে, এনার্জি বিষয়ক শিক্ষা অর্জন করে, পেশাগত উপদেশ মেনে চলা ও প্রয়োগ করে ইত্যাদি এরকম অসংখ্য উপায়ে আপনি নিজ গৃহের ডেইলি অপারেশন্স কস্ট টোয়েন্টি পার্সেন্ট কমাতে পারেন।
গরমের সময় একইভাবে ন্যাচারাল সূর্যরশ্মি (sunray) যা পানি ও বিদ্যুতের জন্য বড়ো ব্যয় বলে পরিচিত পুল ওয়াটার ওয়ার্ম আপ করা যায়, তা যতোটা সম্ভব ব্যবহার করা, নিয়মিত ব্যায়ামের জন্য ইলেকট্রিসিটিচালিত ইকুইপমেন্ট না ব্যবহার করে বাইরে এক্সারসাইজ করা যায়, বাড়ির ছাদে সাস্টেইনাবল মডেল চিন্তা করে সানরুফ (sunroof), গ্রিন রুফ ডিজাইন করে থাকলে লাইটিং কস্ট কমানো যায়। বাড়ির ওয়াল গ্রিন রুফ করে লতা গুল্ম লাগানো যায়।
শুধুমাত্র স্বাভাবিক জ্ঞান (কমন সেন্স) প্রয়োগ করে একটা বড়ো অংশের অপ্রয়োজনীয় শক্তি ব্যয় রক্ষা করা যায়। পিক আওয়ার্স, অফ পিক আওয়ার্স, উইকেন্ড আওয়ার্স হিসেবে যদি রান্নার কাজ, কাপড় চোপড় পরিষ্কার করা, কার্পেট ভ্যাকুউম করা হয় তাহলেও কস্ট কন্ট্রোল করা যায়, ফলে এসবের মাধ্যমে আপনার খরচ বই-এ কোনো নতুন খরচ বা ইনভেস্টমেন্ট ছাড়া একটা বড়ো সেভিংস হয়ে ওঠবে।
কানাডার আবহাওয়া চিন্তা করলে আমাদের সবার জন্য শীতের খরচটা কন্ট্রোল করা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। সেজন্য বিল্ডিং মেটেরিয়ালস, বিল্ডিং কোড, HVAC (Heating, Ventilation and Air Conditioning) রেগুলেশন মেনে চলা একান্ত অপরিহার্য। সিটি থেকে তাপমাত্রা একুশ ডিগ্রি থাকতে হবে ঘরের মধ্যে আর আঠারো ডিগ্রি বিল্ডিং পারফরমেন্স নির্ণায়ক ক্ষেত্রে। যারা নিজ গৃহে হিটিং ও কুলিং ডিগ্রি ফ্যাক্টর চিন্তা করতে চান, তারা আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে নিজের প্রপার্টি নিজেই কেমন এনার্জি ব্যবহার করছে তা নির্ণয় করে আরো সেভিংস বাড়াতে পারবেন। আরো অ্যাডভান্স লেভেল সেভিংস চিন্তা করলে আপনি মেজারমেন্ট অ্যান্ড ভেরিফিকেশন বলে পরিচিত প্রফেশনাল ডিগ্রি ও তার চ্যাপ্টার, যেমন- টরন্টো চ্যাপ্টার প্রয়োগের নীতিমালা ফলো করে সাব-মিটারিং সিস্টেম ইনস্টল করে নিতে পারেন। এই পদ্ধতিতে আপনি আরো দশ থেকে পনেরো পার্সেন্ট খরচ কমাতে পারবেন যা কি-না রিয়েল ইস্টেট ব্যবসায়ী, কর্পোরেট অফিস, ইন্ডাস্ট্রি, ডিফেন্স সেক্টরে বহুল ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণস্বরূপ ধরুন, আপনি একজন রিয়েল ইস্টেট বিসনেস ম্যান এবং আপনার দশটা প্রপার্টি আছে যার অপারেশন কস্ট অনেক অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে আপনি একজন প্রফেশনাল হায়ার করবেন অথবা নিজে এডুকেশন প্রসেস-এর মাধ্যমে নিজেকে সেই পর্যায়ে শিক্ষিত করে তুলবেন, যেন আপনি সূক্ষ্মভাবে নিজের সব এনার্জি ইকুইপমেন্ট কীভাবে মাপ পরিমাপ করে কস্ট বেনিফিট এনালাইসিস করা যায়, সেটা বুঝতে যাবেন। এনার্জি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট নলেজ ও এনার্জি এফিসিয়েন্ট ইকুইপমেন্ট ব্যবহার আপনার টপ প্রায়োরিটি হবে।
আবার আপনি মাসিক পর্যায়ে প্রতিটি ইউটিলিটির (গ্যাস, ইলেক্ট্রিসিটি, পানি, আবর্জনা) অনলাইন একাউন্ট খুলে মাসিক কনসাম্পশন ট্রেন্ড চেক করবেন। ফোরকাসডেটিং করবেন, প্রতি ঘণ্টা কত খরচ, প্রতিদিন কত খরচ, মাসে কত খরচ ইত্যাদি কস্ট ব্র্যাক ডাউন এনালাইসিস করবেন। ক্রেজি না হয়েও এই পদ্ধতিতে আপনি প্রায় অর্ধেকে আপনার ইউটিলিটি কস্ট কমিয়ে নিজেকে নিজে বাহবা দিতে পারেন। এই পুরস্কার বা রিওয়ার্ডটি সামাজিক পর্যায়ে নিয়ে আপনি চ্যাম্পিয়ন ট্রফিও জিতে নিতে পারেন।
এই যে এতকিছু বলা হলো, তার মধ্যে লো হ্যাঙ্গিং ফ্রুইটস তাহলে জানা হলো সেগুলো যেগুলো নিয়মিত চর্চা ও প্রয়োগের মাধ্যমে আপনি এনার্জি খরচ কমিয়ে আনতে সক্ষম হবেন। যেমন- শীতের সময় দরজা ও জানালা বন্ধ রেখে বাতাস প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করবেন, সেজন্য সঠিক মাত্রার বিল্ডিং কোডের সঠিক স্ট্রাকচার রাখতে হবে, নিউ কনস্ট্রাকশন ফেসিলিটির ক্ষেত্রে এটা খুবই সহজ ও গ্রহণযোগ্য একটি উপায়। প্রপার্টি মালিক হলে এই কাজটি আপনি ডিসাইন ও কনস্ট্রাকশন ফেজে (phase) করে নিতে পারেন। ডাবল উইন্ডো, ডাবল ডোর, ভারী পর্দা, ডে লাইট কন্ট্রোল মেকানিজম, ড্রাই ওয়াল ইন্সুলেশন, প্রপার ফ্যান কয়েল ইউনিট ইনস্টলেশন, গ্যারেজ এলএডি লাইটিং সিস্টেম প্রয়োগ, ফোসেট ফ্লো কন্ট্রোল, শাওয়ার হেড ফ্লো কন্ট্রোল, টয়লেট ফ্লাশ দ্বৈত সুইস সিস্টেম চালু করা ইত্যাদি উপায়গুলো। যেখানে এগুলো অলরেডি করা আছে, সেখানে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের এনার্জি সচেতনতা (awareness) জ্ঞান আহরণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে যা যা আপনি কাউন্ট করবেন সেগুলো আপনার লো হ্যাঙ্গিং ফ্রুইটস বলে গণ্য হবে। আরো সহজ করে বললে এর মানে হলো, যে ফলগুলো আপনি সহজে উপভোগ করতে পারেন তাই লো হ্যাংগিং ফ্রুইটস। একেবারেই নিতান্ত জ্ঞান (কমন সেন্স) প্রয়োগ করে যে সেভিংস অর্জন করা যায় সেটাও লো হ্যাঙ্গিং ফ্রুইটস।
বিগ ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে গণ্য যেমন নিজের বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল লাগানো, বাড়িতে বৃষ্টির পানি তথা ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টলমেন্ট করা, মাটির নিচে থার্মাল এনার্জি সিস্টেম ডেভেলপ করা- এসব বিষয়গুলো লং টার্ম গোল বা দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলে আপনি যদি আশাবাদী হন, তবে উদ্ভাবনী এসব পদ্ধতি কনস্ট্রাকশন ফেজে করে ফেলা হবে বড়ো ফেসিলিটির জন্যে অনেকটা ফরজ কাজ।
আওয়ার্নেস, যা নিজ শিক্ষা ও জ্ঞান বাড়ানো যায় সেটা ক্রমাগতভাবে উন্নতি করতে হবে। আওয়ার্নেস বিদ্যে নিজ পরিবার ও আত্মীয় বন্ধু গ্রুপ ও সামাজিক পর্যায়ে নিতে পারলে আপনার মাথায় এনার্জি মুকুট তথা কার্বন ফুট প্রিন্ট কমানের জন্য রিওয়ার্ড প্রদান করে গ্রুপের প্রত্যেককে অধিক সম্মানিত করা সম্ভব। পাশাপাশি আপনি এই এনার্জি সচেতন জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নতুন ইনকাম সোর্স হিসেবে আপনি পেশাগতভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
লেখক পরিচিতি
ছোটবেলা থেকে কবিতা ও আবৃত্তি পছন্দ করা এই মানুষটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চত্বরে মাসব্যাপি একুশে কবিতার আসর দেখে দেখে কবি হবার তীব্র বাসনায় কবিতা লেখা শুরু করেন। ২০২৩ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবি বাসনা’ প্রকাশের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। তারপর ২০২৪ সালে আরও একটি একক কাব্যগ্রন্থ ‘ঘুমন্ত রোদ্দুর’ এবং যৌথ কাব্যগ্রন্থ ‘জান্নাতি জুঁই’ ও ‘রাঙামাটির রাজবাড়ী’ প্রকাশ।

