এক সভ্য সমাজের সন্ধানে
টানাপোড়েনের জীবন থেকে কে না মুক্তি চায়! অন্ধবিশ্বাসের কারাগার থেকে মুক্তির নিঃশ্বাস সবাই নিতে চায়। আইনানুগ, মুক্ত, গণতান্ত্রিক এবং নির্ভয়ের সমাজ প্রতিটি মানুষের কাম্য। যখন স্কুলে পড়তাম তখনই স্বপ্ন ছিল কানাডায় বসতি গড়বো। সেই ভাবনা থেকেই তৎকালীন করাচিস্থ ক্যানাডিয়ান হাই-কমিশনে অশুদ্ধ ইংরেজিতে চিঠি লিখেছিলাম। জবাবও পেলাম, তুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক, আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
পাহাড়-পর্বতের প্রতি অদম্য নেশা ছিল বলে ভাবলাম নেপালে চলে যাবো। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখন ঢাকায় নেপালি কনসাল জেনারেলের সাথে দেখা করলাম। একজন শিক্ষিত ও মার্জিত অল্পবয়স্ক যুবক। বললেন, নেপাল দরিদ্র দেশ। ভালো ও উন্নত জীবনের জন্য পশ্চিমে যাও। রাওয়ালপিন্ডিতে থাকাকালে সুইডিস রাষ্ট্রদূতের সাথে পরিচয় হয়েছিল। একদিন তিনি আমাকে তার বাড়িতে নৈশভোজের নিমন্ত্রণ দিলেন আর বললেন যদি তুমি সুইডেনে আসতে চাও, আমাকে জানিও। কেন জানি না, গেলাম না সেখানে। ১৯৮১ সালে দেশত্যাগ করলাম নানা স্বপ্ন মাথায় নিয়ে। তখন আমি বিবাহিত, পিতা ও পুরোদস্তুর সংসারী মানুষ। ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী অক্ষরানন্দজী মহারাজ আশীর্বাদ করলেন- যেখানেই যাও, মন যেন ভক্ত আর জ্ঞানীরই থাকে। মধ্যপ্রাচ্য হয়ে আমেরিকায় এসে উঠলাম, যদি স্থায়ী হওয়া যায়! একটা অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে আমেরিকান এক্সপ্রেসে চাকরি নিয়ে বেশ আনন্দের জীবন শুরু হলো। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হলো না, প্রায় পাঁচ বছর আমাকে জানানো হলো- ওয়ার্ক পারমিট আর নবায়িত হবে না।
২.
আমেরিকায় যারা আসন গাড়েন, তারা সহজে অন্য কোথাও যেতে চান না। তবে, আমি সেই দলের মানুষ ছিলাম না। আমার বৈধ আবাস ও নাগরিকত্ব চাই। কানাডার জন্য আবেদন করলে দুই মাসের মাথায় আমি বিনা ইন্টারভিউতে নির্বাচিত হয়ে এখানে এসেছিলাম। সাথে নিয়ে এসেছিলাম প্রায় ত্রিশ হাজার মার্কিন ডলার। একজন জানালেন, টরন্টোর ড্যানফোরতে বাঙালি পাড়া আছে, সেখানে গিয়ে ওঠাই সমীচীন। কিন্তু আমি তা করিনি, আমি নতুন সমাজ আর নতুন মানুষ চাই। আমার সন্তানেরা যেন কোনো বিশেষ চিন্তার বশীভূত আর কুক্ষিগত না হয়। আমি যেন নিজেকে আমার চিরাচরিত চিন্তার বলয়কে প্রসারিত করতে পারি। দুই মাসের মাথায় ভালো কাজ পেয়ে গেলাম যেহেতু আমার আমেরিকান কাজের অভিজ্ঞতা ছিল।
এখানে নতুন আসা বাঙালি অভিবাসীরা প্রায়ই অভিযোগ করে থাকে তারা তাদের মনোমতো কাজ পান না তাই তারা সাথে নিয়ে আসা জ্ঞান গরিমাকে কাজে লাগাতে পারেন না। কেউ সরকারি সাহায্যে জীবনযাপন করেন অথবা এমন কাজ করেন যা থেকে পরবর্তী সময়ে আর নিষ্কৃতি পান না। এই অবস্থাটি আসে যখন বিদেশ বিভুয়ে শূন্য হাতে আসি, এখানকার প্রকৃত অবস্থা না জেনে আসি অথবা অবাস্তব স্বপ্নের জাল বুনে আসি। এখানকার সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা ও ভাষার বাস্তবতা না জানা ও পিছনে ফেলে আসা বিশ্বাসের বোঝা না ফেলতে পারার কারণে জীবন অভিযোগের কারণ হয়ে ওঠে। যারা এই অবস্থাগুলোকে সযতনে এড়াতে পারে তারা এখানে সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে। যারা এখানে অন্ধ ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে বসবাস করতে চান তাদের জন্য কানাডা সুখের জায়গা নয়। বাস্তবের সাথে না মিলে থাকতে পারলে এখানকার পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ হবে। ধর্ম বিশ্বাসের কঠিন শৃঙ্খলে সন্তানদের আটকে রাখতে গিয়ে তারা পরিবারে অশান্তি ডেকে আনেন।
একটি নতুন সমাজে নিজেকে স্থাপিত করতে হলে যা কিছু পুরাতন তাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হয়। বাংলাদেশের কঠিন ও ধর্মান্ধ সমাজ থেকে নিজেকে মুক্ত করা কঠিন কাজ। নিরপেক্ষ শিক্ষা ও সাহস না থাকলে মুক্ত সমাজে বসবাস স্থাপন করা সহজ কাজ নয়। পশ্চিমের সাথে প্রাচ্যের মূল্যবোধের তফাৎ পর্বত প্রমাণ। যারা এই সত্যকে উপলব্ধি করতে অক্ষম তাদের পক্ষে অভিবাসী না হওয়াই উত্তম। অনেক মানুষের কথা জানি, যারা দেহটি এখানে রাখেন আর বিশ্বাস লালন করেন ফেলে আসা সমাজের। এই দ্বিধা থেকে মুক্ত না হলে কানাডার সমাজে এদের কোনো ভূমিকা নেই। এই ধরনের অভিবাসী আমাদের জন্য বোঝা- সম্পদ নয়। এরা আমাদের কর্মফল ভোগ করে, নিজেরা উৎপাদন করতে অক্ষম।
আমি এখানে আসার অনেক আগেই এই বিষয়গুলোর প্রতি উদার দৃষ্টি দিয়েছি ও পরিবারকে প্রস্তুত করেছি সেইভাবেই। সেই থেকে এখানে আমার এক নতুন জীবনের পরিকল্পনা। ব্যক্তিস্বাধীনতার ভিতর দিয়ে আমি আমার আজন্মকালের লালিত আদর্শকে এই ভূখণ্ডে এসে নতুন চেতনায় মূর্ত করে তুলতে লাগলাম। দেখলাম, কত মানুষ! কত তাদের প্রজাতি! উপলব্ধি করলাম, আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর, উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায়- কী অভাবনীয় সৌন্দর্যের লীলাভূমি! এখানে দিনে এনে দিনে খেতে হয় না, আমার সাধ্যে যা চাই- সব পাই। এখানে দেখি, মানুষ এক অফুরন্ত সম্পদ, সে বোঝা নয়। আমাকে মিথ্যা বলতে হয় না, ঘুষ দিতে হয় না, চাটুকারিতা করতে হয় না। আমি যা চাই না, নিজের শক্তিতেই তা পরিহার করতে পারি। আমাকে বাধ্য হয়ে কোনো ধর্মের গলিত শবকে বয়ে বেড়াতে হয় না। আমার যা প্রাপ্য, তা আমি না চাইতেই পেতে পারি। কানাডার সুস্থ ও সবল সমাজ ব্যবস্থার জন্য এখানকার শতবর্ষ আগে আসা মানুষদের অবদান অনস্বীকার্য, যদিও, তারাও আমাদেরই মতো অভিবাসী হয়ে এখানে আবাস গড়েছিল। আমাদেরও দায়িত্ব, আমরা যেন এই ধারাকে ধরে রাখি এবং এই দেশকে ভালোবাসি এবং রক্ষাও করি।
৩.
সভ্যতার ইতিহাসে, যুগে যুগে মানুষ খাদ্য, বাসস্থান, নিরাপত্তা আর চারণভূমির অন্বেষণে দেশ থেকে দেশান্তরে পাড়ি জমিয়েছে। প্রাচীনকালে এই পৃথিবী উদার ও মুক্ত ছিল বলে মানুষের চলাচলে আরোপিত কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। প্রথম এখানে এসে মনে হলো, এই বিশাল দেশটি যা আটলান্টিক মহাসাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগর আর উত্তর মেরু থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত এক অনাবিল সৌন্দর্যের লীলাভূমি। দিগন্ত বিস্তৃত ঢেউ খেলানো মাঠ, গভীর নীল জলে পূর্ণ শত শত হ্রদ, হাজার হাজার মাইল ব্যাপী সযত্নে রক্ষিত বনভূমি, কোটি কোটি নির্ভয় পশু পাখি, আকাশ ছোঁয়া পর্বতমালা, শীতকালে অনবরত তুষার পাতের দৃশ্য, বসন্তে সাত বিলিয়ন অপরূপ ফুল আর পাতা ঝরার সময়ে রঙের আগুনে মাতাল করা বৃক্ষরাজি। এ এক অপরূপ দেশ, যার জনসংখ্যা চার কোটিরও কম। এটি পৃথিবীর একটি অন্যতম উন্নত দেশ, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও অর্থ-সম্পদ সুরক্ষিত। এখানে আইনের শাসন সুস্পষ্টভাবে স্থাপিত ও পরিচালিত। কানাডা যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী, একই ভাষায় কথা বলা হয় (অবশ্য, ফরাসি ভাষাও এখানকার রাষ্ট্র ভাষা), তারপরও দু-দেশের চালচলন, মেজাজ ও মর্জি অনেক দিক দিয়ে আলাদা। এখানে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা আর ওপাশে প্রেসিডেন্সিয়াল। ক্যানাডিয়ানরা একটু আয়েশি আর আরামপ্রিয় অন্যদিকে আমেরিকানরা অতিরিক্ত যান্ত্রিক। এরা একে অন্যের সাথে শান্তিতে বসবাস করে আর যখন মন চায়, যাওয়া-আসা করে। এখানে একটি সত্য, যা আমি বড়ো বেদনার সাথে অনুভব করেছি, তা-হলো- এমন প্রাচুর্যের ভিতরেও এখানে কিছু দারিদ্র্য আছে, যা মানুষের নিজের কর্মফল।
একদিন কোথাও যেন যাচ্ছিলাম। হঠাৎ গাড়ির কাচের ভিতর দিয়ে হতাশ চেহারার একজন মানুষ একটি মলিন চিরকুট গলিয়ে দিয়ে আমাকে বললো, I am very hungry. Can you help? দেখলাম, কাগজটিতে লেখা, Travelled a lot but reached nowhere. মানুষের সার্থকতা আর বিফলতার বিচার তো আমার কাজ নয়, তবে কিছুটা বেদনার ভাগ হৃদয়ে ধরে রাখতে পারি। আর এ-জন্য আমার হৃদয় যতোই ভারাক্রান্ত হোক না কেন, স্থান কোথাও না কোথাও থেকেই যায়।
৪.
চাকরি পাওয়ার পর প্রথম যে কাজটি আমাকে করতে হলো, তা ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার চেষ্টা করা। অনেকবার চেষ্টা করে তা পেলাম এবং একটি পুরাতন গাড়ি কিনলাম। এখানে বিশেষ করে শীতকালে গাড়ি ছাড়া চলাফেরা করা কঠিন। নানাভাবে আমি অনুভব করতে লাগলাম, আমার জীবনের এক বিশেষ পর্যায়ে এসে আমি দাঁড়িয়েছি যেন। যে প্রকৃতিকে আমি আমার জীবন দেবতা মনে করে এতদিন বেঁচেছিলাম, আজ তাঁর দেখা পেলাম বুঝি। প্রতিটি দিন যেন আমার সামনে নব নব দুয়ার অবারিত করে দেখা দিতে লাগলো। আমার ভাবনা-চিন্তা, বৃহতের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর অসীম এক মুক্তির স্বাদ- আমি প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারলাম! এতদিনে একটি সত্য আবার আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে, আমার সীমিত জীবনের চেয়ে আমার ভাবনার জীবনের পরিসর অনেক বড়ো।
প্রতিটি বসন্ত থেকে পাতা ঝরার ঋতু পর্যন্ত ছুটির দিনে বের হয়ে যেতাম বাড়ি থেকে অনেক দূরে, নির্জন ঢেউ খেলানো মাঠ আর বন পেরিয়ে অজানার পানে। তারই একটি অভিজ্ঞতা এখানে লিখছি। একদিন ভোরবেলায় গিয়েছিলাম মাছ ধরতে। পরিপূর্ণ জীবনের স্বাদ পেতে হলে জীবন যেখানে জীবনকে উত্যক্ত করে না, এমন স্থানে মাঝে মাঝে যেতে হয়। এক অবসরে নির্জন বনের ভিতর দিয়ে যেতে যেতে দেখলাম, একটা পাখি আরেকটা মৃত পাখির পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে। খুব কাছেই দাঁড়িয়েছিলাম। দেখলাম, পাখিটি একবার আমার দিকে তাকায় আবার তার মৃত সঙ্গীটির দিকে। আমি মৃত্যুকে দেখেছি আর জানিও কিন্তু এই পাখিটি ছায়া ঢাকা নির্জনতায় দাঁড়িয়ে বোধ হয় ভাবছে, তার এই একাকিত্বের কারণ কী? মানুষের জীবনের সাথে পাখির জীবনের অনেক তফাৎ। মানুষ বেদনাকে বয়ে বেড়ায় আর পাখি আকাশে আকাশে ওড়ে ওড়ে নীলিমায় ডানা মেলে তার সব বেদনা, ব্যথা আর শূন্যতা অসীম আকাশের বুকে জমা করে দেয়। আর আকাশ যখন এই ভার আর সইতে পারে না, তখন বৃষ্টি হয়ে পৃথিবীর বুকে অঝোরে ঝরে পড়ে। এভাবেই দুজনে বুকের ভার নামিয়ে ফেলে। আমরা মানুষেরা তা পারি না। আমরা বেদনা বয়ে বেড়াই। আমরা সব তমসাকে আলোকিত করতে পারি না আর মনে হয়, তা চাইও না।
আরেক দিন ভর-দুপুরে আমার বাড়ি থেকে ২০০ কিমি. দূরে এক অজানা পথে GPS-এর হাত ধরে এক নির্জন পথে গাড়ি চালাতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রান্তর প্রান্তের কোণে বসা রুদ্রের কথা মনে এসেছিল। প্রখর সূর্য কিরণে উজ্জ্বল ধরণীর বুক চিরে অলস হয়ে পড়ে থাকা আঁকাবাঁকা ঢেউ খেলানো মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে যাওয়া পথ ছিল সে। গিন্নিকে বললাম, এই নির্জন পথের একটা ছবি ওঠাও। আমি ভাবতে লাগলাম, কেমন সে নিরাসক্ত রুদ্র সন্ন্যাসী, যে এই প্রান্তর প্রান্তের কোণে বসে মধুরেরও স্বপ্নের আবেশে ধ্যানমগ্ন আঁখিতে মধ্য দুপুরে রাখালের বাঁশি শোনে? তাঁর মনে কোন নদী নীরবে বয়? একবার যদি তাঁর দেখা পেতাম!
আমার নতুন কাজটি বেশ ভালো বেতনের আর আনন্দময় কাজ ছিল। আমি প্রতিদিনের কাজের মাঝ দিয়ে নানা মানুষের সাথে পরিচিত হতে লাগলাম। এই বিশাল জগতে কত যে মানুষ আর তাদের চিন্তা-ভাবনা কত যে বিচিত্র, এই অভিজ্ঞতা আমাকে প্রতিদিন ঋদ্ধ করতে লাগলো। এই নতুন অভিজ্ঞতার জগৎ সাদা আর কালোয় নয়, এর মাঝে নানা মানুষের আনন্দ-বেদনার এক সম্পূর্ণ চিত্র পেলাম। বৈচিত্র্যের মাঝে সন্ধান পেলাম এক অভাবনীয় ঐক্যের।
লেখক পরিচিতি
কলেজ জীবন থেকে লেখার অভ্যাস। বামপন্থী ছাত্র রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন। নান্দনিক সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ ছিল কৈশোর থেকেই। ঢাকার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখতেন। ১৯৮১ সালে আমেরিকার উদ্দেশে দেশত্যাগ। কানাডায় আসার পর জীবন স্থায়ী হলে নিয়মিতভাবে লিখতে শুরু করেন। ২০১৬ সালে ‘আমার সময় আমার পথ’ এবং ‘My Lonely Thoughts’ প্রকাশিত। ‘হে মহাজীবন’ প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে আর ‘অনুভবের বিভূতিতে’ প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালে।

