দুর্গাপূজার স্মৃতি

মম কাজী

সামনেই দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। কী প্রকাণ্ড, কী ঝলমলে, কী অপূর্ব সুন্দর!

প্রথম দর্শনেই অনুভব করেছিলাম এক ঐশ্বরিক বিশালত্ব। সেই সঙ্গে ছিল নিজেকে তুচ্ছ মনে হওয়ার এক অদ্ভুত অনুভূতি। আমার তিন ফুটের ছোট্ট শরীরটি তখন যেন তিন ইঞ্চি হয়ে গিয়েছিল। প্রথম দর্শনের সেই মুগ্ধতা আশপাশের তুমুল কোলাহলকেও স্তিমিত করে দিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, এই জগত-সংসারে আছি শুধু আমি আর দশভুজা সেই অপূর্ব সুন্দর সুবিশাল নারীমূর্তি।

এটাই ছিল আমার প্রথম দুর্গাদর্শনের অভিজ্ঞতা।

আমার ছোটবেলাটা কেটেছে চট্টগ্রাম শহরে, কর্ণফুলী নদীর তীরে একটি বাসায়। জীবনের সবচেয়ে রঙিন, সবচেয়ে নির্ভার এবং সবচেয়ে ভালোবাসাময় দিনগুলো ছিল সেগুলো। আমার প্রথম স্কুল, প্রথম বন্ধু, প্রথম পৃথিবী—সবকিছুর শুরু সেখান থেকেই। বাবার চাকরির সুবাদে আমাদের সেখানে যাওয়া।

জীবনের প্রথম বন্ধু ছিল আরতী।

আমরা যে বিল্ডিংয়ে থাকতাম, তার পাশের বাসাতেই থাকত আরতী এবং তার বিশাল যৌথ পরিবার। হিন্দু-মুসলমান আলাদা করার বয়স তখনও হয়নি। আমি যেমন দিন-রাত পড়ে থাকতাম তাদের বাসায়, তেমনি সন্ধ্যা হলেই মা আমাকে আর আরতীকে একসঙ্গে ডেকে এনে পড়তে বসাতেন। ধর্ম তখন আমাদের কাছে কোনো পরিচয় ছিল না। পরিচয় ছিল শুধু বন্ধুত্ব।

রোজা আর ঈদের সময় আমরা চলে যেতাম ঢাকায়, আত্মীয়-স্বজনের কাছে। কিন্তু শরৎকালের দুর্গাপূজার সময় পূজা দেখা এবং তার আনন্দে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল আরতী ও তার পরিবারের সুবাদেই। আজও চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই সেই দিনগুলো।

পূজা শুরু হওয়ার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত প্রস্তুতি। নতুন পোশাক কেনা, বাড়িতে বাড়িতে ব্যস্ততা, আরতীর মা ও চাচিদের নানা রকম খাবার তৈরির আয়োজন। আরতীদের বাড়ির পাশেই বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করে স্থাপন করা হতো পূজামণ্ডপ। চারদিকে যেন এক উৎসবের আবহ।

“মা আসবেন, মা আসবেন!”

ছোট্ট আমি ভীষণ অবাক হয়ে ভাবতাম, এত আনন্দ কিসের?

একদিন আরতীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—

“তোমার তো মা আছেন, আরেকটা মা কোথা থেকে আসবেন?”

আরতীও উত্তর দিতে পারেনি। বোধহয় একটু বেশিই কঠিন প্রশ্ন করে ফেলেছিলাম।

উত্তর দিয়েছিলেন অনুরুদ্ধ দাদা। আজ এত বছর পরে তাঁর বলা প্রতিটি কথা হুবহু মনে নেই, কিন্তু মূল ভাবটা মনে আছে। তিনি বলেছিলেন, দুর্গা কেবল একজন দেবী নন; তিনি শক্তির প্রতীক, আশ্রয়ের প্রতীক, মমতার প্রতীক। মানুষের দুঃখ-কষ্ট, ভয়-ভীতি, অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে যে শক্তি দাঁড়িয়ে থাকে, সেই শক্তিরই প্রতীক মা দুর্গা। তিনি কখনো অন্নদা, কখনো গৌরী, কখনো পার্বতী, কখনো ভবানী। নাম আলাদা হলেও সত্তা এক।

শিশুমনে তখন এত গভীর কথা বোঝার ক্ষমতা ছিল না। কিন্তু বুঝেছিলাম, এই “মা” কোনো একজনের মা নন। তিনি সবার। আর সেই কারণেই বুঝি তাঁর আগমন নিয়ে এত আনন্দ, এত উচ্ছ্বাস।

শরতের আকাশ তখন অন্যরকম সুন্দর হয়ে উঠত। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াত। দূরে দূরে কাশফুল বাতাসে দুলত। রোদের মধ্যে থাকত একধরনের কোমলতা। প্রকৃতি যেন নিজেই উৎসবের সাজে সেজে উঠত। আজ বুঝি কেন বাঙালি শরৎকে উৎসবের ঋতু বলে। সেই সময়টায় মনে হতো, সত্যিই বুঝি মা তাঁর সন্তানদের দেখতে পৃথিবীতে আসছেন।

পরবর্তীকালে বইপত্র পড়ে জেনেছি, একসময় দুর্গাপূজা বসন্তকালে অনুষ্ঠিত হতো। পরে রামচন্দ্র রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আগে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন শরৎকালে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে পূজা করার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু পূজার সময় একটি পদ্ম কম পড়ে যায়। তখন রামচন্দ্র নিজের চোখ উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর সেই ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে দেবী আবির্ভূত হন এবং তাঁকে আশীর্বাদ করেন। সেই থেকেই শরৎকালের এই পূজাকে অকালবোধন বলা হয়।

ছোটবেলায় এসব কাহিনি শুনে মনে হতো, দেব-দেবীদের গল্পগুলো যেন কোনো রূপকথার জগৎ থেকে উঠে এসেছে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছি, এই গল্পগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে মানুষের সাহস, ত্যাগ, বিশ্বাস আর সংগ্রামের কথা। কিন্তু এসব ছিল বইয়ের কথা। আমার কাছে দুর্গাপূজা ছিল অনুভূতির বিষয়। আজও চোখ বন্ধ করলেই যে দৃশ্যগুলো ভেসে ওঠে, সেগুলো কোনো পুরাণের গল্প নয়—সেগুলো আমার শৈশব। দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের শব্দ। ধূপের ধোঁয়ায় ভরে থাকা সন্ধ্যা। মণ্ডপের চারপাশে লাল, নীল, সবুজ আলোর ঝলকানি। নতুন জামাকাপড় পরে দৌড়ে বেড়ানো শিশুদের হাসি। প্রসাদের গন্ধ। মানুষের ভিড়। আর সেই ভিড়ের মাঝখানে আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দেবী দুর্গা।

মহালয়ার অর্থ তখন জানতাম না, কিন্তু মহালয়ার ভোর যে অন্যরকম ছিল, তা বুঝতাম। ভোরবেলা আরতীদের বাসা থেকে ভেসে আসত চণ্ডীপাঠের সুর। পুরো পরিবেশটাই যেন বদলে যেত। মনে হতো, খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা ঘটতে চলেছে।

তারপর আসত ষষ্ঠী। যেদিন প্রথমবার মণ্ডপে গিয়ে সম্পূর্ণ সাজে দেবীকে দেখা যেত। নতুন জামা পরে আরতীদের সঙ্গে মণ্ডপে যাওয়ার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ছোট্ট আমি বারবার ভিড়ের ফাঁক গলে প্রতিমার সামনে গিয়ে দাঁড়াতাম। মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। মনে হতো, তিনি বুঝি সত্যিই আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।

সপ্তমী এলেই উৎসব যেন পূর্ণতা পেত। চারদিকে মানুষের ঢল। আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা। খাবারের আয়োজন। শিশুদের হৈচৈ। প্রতিটি দিনই যেন আগের দিনের চেয়ে একটু বেশি আনন্দ নিয়ে আসত।

অষ্টমী ছিল সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। কেন ব্যস্ত, তা তখন বুঝতাম না। শুধু দেখতাম, সেদিন মানুষের ভিড় সবচেয়ে বেশি। সবাই খুব সুন্দর পোশাক পরে এসেছে। মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল নেমেছে। ঢাকের আওয়াজ যেন আরও তীব্র। ধূপের গন্ধ আরও গভীর। সন্ধ্যা নামলে পুরো পৃথিবীটাই যেন আলোয় ভেসে যেত। কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে, কোথাও গান, কোথাও আবৃত্তি, কোথাও নাটক। আমি আর আরতী হাত ধরে ঘুরে বেড়াতাম। কখনও প্রসাদ খেতাম। কখনও মেলায় ঘুরতাম। কখনও শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মানুষের আনন্দ দেখতাম। সেই বয়সে বুঝিনি, কিন্তু এখন বুঝি—উৎসবের সবচেয়ে সুন্দর অংশটি ছিল মানুষ। মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ। হাসি ভাগ করে নেওয়া। খাবার ভাগ করে নেওয়া। আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।

নবমী এলেই মনটা কেমন যেন হয়ে যেত। উৎসব তখনও শেষ হয়নি, কিন্তু বিদায়ের আভাস পাওয়া যেত। আনন্দের মাঝেও একধরনের অজানা বিষণ্নতা কাজ করত। মনে হতো, এত দ্রুত সময় চলে যাচ্ছে কেন?

আর তারপর আসত দশমী। আজও মনে আছে বিসর্জনের দিনের সেই দৃশ্য। প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে অনেক মানুষ কাঁদছেন। কেউ প্রণাম করছেন। কেউ হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ নীরবে তাকিয়ে আছেন। শিশু বয়সে বিষয়টি আমার কাছে খুব আশ্চর্যের ছিল। যার আগমন উপলক্ষে এত আনন্দ, তাঁর বিদায়ে মানুষ কাঁদে কেন? বহু বছর পরে বুঝেছি—যাকে ভালোবাসা যায়, তার বিদায় কখনও সহজ হয় না। বিসর্জনের শোভাযাত্রা ছিল দেখার মতো। ঢাকের শব্দ। উলুধ্বনি। শঙ্খধ্বনি। নাচ। গান। আনন্দ। আর তার মাঝেই লুকিয়ে থাকা এক অদ্ভুত বিষাদ। জলরাশির মধ্যে ধীরে ধীরে প্রতিমা মিলিয়ে যেত। আর ছোট্ট আমি বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে থাকতাম। মনে হতো, মা কি সত্যিই চলে গেলেন? নাকি আগামী বছর আবার ফিরে আসবেন?

বিসর্জনের পরে আরতীদের বাড়িতে আরেক ধরনের পরিবেশ তৈরি হতো। বড়রা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাতেন। মিষ্টিমুখ করতেন। হাসি-আনন্দে ভরে উঠত চারদিক। সেই সময়টায় ধর্মের ভিন্নতা বলে কিছু অনুভব করিনি। আমার কাছে দুর্গাপূজা ছিল আরতীদের পরিবারের উৎসব। আর আরতীদের পরিবার ছিল আমার নিজের পরিবারেরই একটি অংশ। হয়তো সেই কারণেই এই স্মৃতিগুলো আজও এত জীবন্ত।

এত বছর পরেও ঢাকের শব্দ শুনলেই, ধূপের গন্ধ পেলেই কিংবা শরতের আকাশে কাশফুল দুলতে দেখলেই আমি ফিরে যাই কর্ণফুলীর তীরে। ফিরে যাই সেই ছোট্ট মেয়েটির কাছে, যে বিস্ময়ভরা চোখে প্রথমবারের মতো দেবী দুর্গাকে দেখেছিল। সময়ের নিজস্ব এক অদ্ভুত স্বভাব আছে। সে মানুষকে বড় করে দেয়, দূরে নিয়ে যায়, বদলে দেয়। একসময় যে প্যান্ডেলকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থাপনা মনে হতো, আজ তার চেয়েও বড় অনেক কিছু দেখেছি। একসময় যে ঢাকের শব্দে হৃদয় নেচে উঠত, আজ পৃথিবীর আরও অনেক শব্দ শুনেছি। তবু আশ্চর্যের বিষয়, জীবনের এত পরিবর্তনের পরেও কিছু স্মৃতি ঠিক আগের মতোই রয়ে যায়। দুর্গাপূজা আমার কাছে তেমনই একটি স্মৃতি।

চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় ফিরে আসার পর আর কখনও সেইভাবে পূজার সঙ্গে জড়িয়ে থাকার সুযোগ হয়নি। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মজীবন—জীবনের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে মানুষকে তার শৈশব থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তবুও পূজার সময় এলে ক্লাসের হিন্দু বন্ধুদের কাছ থেকে নাড়ু খাওয়ার সুযোগ আমি কখনও হাতছাড়া করতাম না। সেই নাড়ুর স্বাদে যেন কোথাও আরতীদের বাড়ির উঠান, কর্ণফুলীর বাতাস আর শৈশবের দিনগুলো লুকিয়ে থাকত।

আজ যখন শরতের নীল আকাশ দেখি, সাদা মেঘের ভেলা দেখি, কিংবা বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল দেখি, তখন অজান্তেই মনে পড়ে যায় সেই দিনগুলোর কথা। মনে পড়ে আরতীকে। মনে পড়ে তার পরিবারের মানুষগুলোকে। মনে পড়ে সেই উৎসবমুখর সন্ধ্যাগুলোকে, যখন ধর্মের পরিচয় ছিল না, ছিল শুধু মানুষে মানুষে ভালোবাসার সম্পর্ক।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছি, দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়। এটি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, একটি মানবিক অনুভূতি, একটি সামষ্টিক আনন্দের নাম। এটি এমন এক উৎসব, যেখানে দেবীকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে মানুষ আসলে নিজেদের ভেতরের আলোকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করে।

হয়তো সে কারণেই হাজার বছর ধরে এই উৎসব বাঙালির হৃদয়ে এত গভীরভাবে বেঁচে আছে।

পুরাণে দেবী দুর্গার আবির্ভাবের কথা বলা হয় অসুরবিনাশের জন্য। তিনি এসেছিলেন অন্যায়, অত্যাচার ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে। কিন্তু আজ যখন চারদিকে তাকাই, তখন মনে হয় অসুরেরা কেবল পুরাণের পাতায় নেই। তারা আজও আছে। যুদ্ধের রূপে আছে। ক্ষুধার রূপে আছে। দারিদ্র্যের রূপে আছে। অন্যায়ের রূপে আছে। অত্যাচারের রূপে আছে। বিশ্বাসঘাতকতার রূপে আছে। মানুষের প্রতি মানুষের নিষ্ঠুরতার রূপে আছে। প্রতিদিন পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে মানুষ যুদ্ধের কারণে ঘর হারাচ্ছে। কেউ ক্ষুধার কাছে পরাজিত হচ্ছে, কেউ বেদনার কাছে, কেউ অন্যায়ের কাছে। প্রযুক্তি যত উন্নত হয়েছে, মানুষের জীবন তত সহজ হয়েছে—কিন্তু মানুষের কষ্ট কি সত্যিই কমেছে?

সেই কারণেই আজও দেবী দুর্গার গল্প প্রাসঙ্গিক। কারণ মহিষাসুর কেবল একটি চরিত্র নয়; সে অন্যায়ের প্রতীক। আর দুর্গা কেবল একটি প্রতিমা নন; তিনি সাহসের প্রতীক, প্রতিবাদের প্রতীক, মমতার প্রতীক, ন্যায়ের প্রতীক।

আমার শৈশবের সেই ছোট্ট মেয়েটি হয়তো এসব গভীর অর্থ বুঝত না। সে শুধু জানত, শরৎ এলে মা আসেন। চারদিকে আলো জ্বলে ওঠে। মানুষ খুশি হয়। পৃথিবী কিছুদিনের জন্য একটু বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে। কিন্তু আজকের আমি জানি, সেই সৌন্দর্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আরও বড় একটি শিক্ষা। অন্ধকার যত গভীরই হোক, আলো ফিরে আসে। অন্যায় যত শক্তিশালীই হোক, ন্যায় তার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। নিরাশা যত বিস্তৃতই হোক, আশার প্রদীপ নিভে যায় না। হয়তো এই বিশ্বাসটুকুই প্রতি বছর দুর্গাপূজাকে নতুন করে অর্থবহ করে তোলে।

তাই আজও মায়ের কাছে আমার প্রার্থনা—

পৃথিবী ভরে থাকা যুদ্ধের অসুর, কষ্টের অসুর, ক্ষুধার অসুর, বেদনার অসুর, ঘৃণার অসুর, বিশ্বাসঘাতকতার অসুর এবং অত্যাচারের অসুরদের বিনাশ করুন। মানুষের হৃদয়ে জাগিয়ে তুলুন সহমর্মিতা, দয়া, ভালোবাসা ও ন্যায়ের বোধ। পৃথিবীকে করুন আরও মানবিক, আরও সুন্দর, আরও বাসযোগ্য। আর আমাদের সকলকে শেখান—ধর্মের আগে মানুষকে ভালোবাসতে, ভেদাভেদের আগে হৃদয়ের সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে। শৈশবের সেই স্মৃতিগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়ে আজও মনে হয়, হয়তো এ কারণেই দুর্গাপূজা আমার কাছে শুধু একটি উৎসব নয়; এটি আমার বেড়ে ওঠার গল্পের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। একটি সময়ের গল্প। একটি বন্ধুত্বের গল্প। একটি শহরের গল্প। আর সর্বোপরি, মানুষে মানুষে ভালোবাসার গল্প।