শাহানা আকতার মহুয়া পেলেন বামে-ইহাস: প্রবাসে নতুন মাইলফলক পুরস্কার
শাহানা আকতার মহুয়া পেলেন প্রথম বামে-ইহাস বাংলামেইল–কবি ইকবাল হাসান সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬। প্রবাসে বাংলা সাহিত্যের জন্যে এই প্রথম এক সম্মানজনক বড় পুরস্কার। শুধু কানাডায় নয় গোটা নর্থ আমেরিকায় বাংলা সাহিত্যে দেশের বাংলা একাডেমির প্রায় কাছাকাছি অর্থমূল্য হাজার ডলারের সন্মানীসহ। খুচরো ২০ ডলারের ক্রেস্ট বা পদকের ছড়াছড়ি প্রবাসে, এটি মোটেই তা নয়। তবে টরন্টোর পাঠকপ্রিয় বাংলামেইল-এর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আমার প্রিয় বন্ধু কবি ইকবাল হাসানের স্মরণে এই সম্মান দেখিয়ে। আশা করা যায়, কালেক্রমে পুরস্কারটি আরো সম্মানজনক হয়ে উঠবে। শুধু কানাডার বাংলায় লেখা কবি-সাহিত্যিকদের জন্যে ছিল এই পুরস্কার সীমাবদ্ধ। তবু জুরি কমিটির চারজন – আমি, সুব্রত কুমার দাস, দেলওয়ার এলাহী ও কবি ইকবাল হাসানের স্ত্রী বরেণ্য কবি ও কথাসাহিত্যিক তসলিমা হাসান ইউএস এবং বাংলাদেশ থেকে আসা আবেদন সামলাতে হিমসিম খেতে হয়েছে। আমার পক্ষ থেকে জুরি দায়িত্বে থাকা সুব্রত, এলাহী ও তসলিমা ভাবীকে আন্তরিক ধন্যবাদ। মিন্টুর সর্বাত্মক সহযোগিতায় অনেক মিটিং বাছাই লাগাতার পাঠে পর্যায়ক্রমে শেষে ভ্যাঙ্কুভার প্রবাসী কবি অনুবাদক সম্পাদক শাহানা আকতার মহুয়াকে পুরস্কারের জন্যে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করার জন্যে।
মহুয়া মূলত কবি হলেও ইংরেজি থেকে দারুণ অনুবাদ করেন বাংলায়। একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনাও করেন। আর এই সবকিছু করেন মাল্টিকালচারাল হেল্পিং হাউজ সোসাইটিতে দায়িত্বশীল ফুল টাইম চাকরি করে।
তার প্রকাশিত কবিতার বই ধ্রপদ সন্ন্যাসে (১৯৯৮), কাঁচের কোকিল (২০০০), প্রত্নপিপাসার জল (২০০৫), মনঘর (২০১১)। অনুবাদ বই রয়েছে জেনানা জবান (২০১০ ভারতীয় লেখিকাদের গল্প), দূরের ক্যানভাস (২০১৬ কানাডিয়ান আদিবাসী নারী কবিতার বাংলা অনুবাদ), এবং আর্মেনিয়ান গল্প (২০১৮)।
এবার টরন্টো পুরস্কারের জন্যে ভ্যাঙ্কুভার থেকে উড়ে আসায় নতুন মহুয়ার সাথে ভালোভাবে আলাপ হলো। ভাবছেন নতুন করে আবার কেমন? আসলে মহুয়ার স্বামীর নাম নতুন। শাহানা আকতার মহুয়া সাধারণ বাঙালি চেয়ে বেশ লম্বা সুশ্রী মার্জিত লুকোনো গভীরতার ভাব মুখে প্রকাশ্য।
১৬ মে শনিবার টরন্টো বাংলাদেশি কমিউনিটির এক বিশেষ দিন! পর্দা উঠবে টরন্টোর সব চেয়ে জমজমাট বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের। এসেছিলেন চার-চার আট এমপি। টরন্টো শহরের মেয়র অলিভিয়া চৌ। দারুণ মানানসই সালওয়ার কামিজ পরে এলেন মেয়র। মঞ্চে তিনি এতোটাই আনন্দিত ছিলেন যে তার পিএস এরপর অন্যত্র যাওয়ার কথা এসে মনে করাতে হেসে বল্লে এখানেইতো মজা পাচ্ছি! থাকি আরো কিছুক্ষণ!
এরপরেই উপস্থাপকদ্বয় ডাকলেন বাংলামেইল–কবি ইকবাল হাসান সাহিত্য পুরস্কার ও হাজার ডলারের বিশাল দামী চেক-এর সাথে মূল চেক তুলে দিতে শাহানা আকতার মহুয়াকে। তার হাতে ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেবেন কানাডার পোয়েট লরিয়েট মাননীয় লিলীয়ান অ্যালেন। জুরিদেরও সুযোগ হলো মঞ্চে পাশাপাশি লাইন দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর। মহুয়া হাল্কা আকাশি রঙে শাড়ি পরে ছিলেন। ভাগ্য ভালো প্রবাসে মঞ্চে ওঠার ব্যাপার হলে অতি মেকাপে অতি রঞ্জিত হয়ে উঠেন। মহুয়ার মেকাপ বেশ মার্জিত ছিল। তার জন্যে মাহেন্দ্রক্ষণ। বিশাল টরন্টো প্যাভিলিয়ন হল লোকে লোকারণ্য – চতুর্দিক থেকে রঙিন জোরালো লেজার আলোর বিম পাগলামি করে যাচ্ছে। অতীব সুন্দর লাগছিল শাহানা আকতার মহুয়াকে। মানুষের সম্মান প্রাপ্তিতে এক ধরনের তৃপ্তিতে অন্তর ভরে ওঠে, সেই আভা মুখাবয়বেও ছড়িয়ে পড়ে। মহুয়ার তেমনি হল। বেশ গুছানোভাবে নিজের পুরস্কার প্রাপ্তি বক্তব্য উচ্চারণ করে মঞ্চ থেকে নেমে এলেন তিনি। এরপর থেকে আমি সুযোগ পেলাম নতুন ও মহুয়ার পাশাপাশি বসার। এর মাঝে নতুন-মহুয়া হল থেকে বেরিয়ে লবিতে খাবার দোকান থেকে কখনো মোগলাই পরোটা চা, কখনো সমুসা চা খাইয়েছেন বেশ কয়েকবার। অনেকে মহুয়ার সাথে শেলফী তুলতে এলে তাও তিনি হাসি মুখে করেছেন। এক সময় সাঙ্গ হলো মেলা। নিউ ইয়র্ক থেকে ও লস এঞ্জেলেস থেকে আসা জনপ্রিয় সব বাংলা রেপারদের ঝুমঝুমাঝুম গান আর দর্শকদের নাচে মাতোয়ারা হয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল ২০২৬।
পার্কিং-এ এসে আবার শেলফির ছবিঝড়। এটাই চল। পুরস্কার পেয়েছেন সুন্দরী নারী। পাশে দাঁড়িয়ে একটি শেলফিতো ফরজ হয়ে যায়। নতুন-মহুয়া জানতে চাইলেন একটু দূরে মারখাম সিটিতে তাদের হোটেলে নামিয়ে দিতে পারবো কি না? জানালাম, অবশ্যই পারবো। যেতে যেতে আর একটু কথা হবে, সেইতো ভালো।
মে মাসের মাঝামাঝি তবু বেশ বাতাশে শীত। রওনা দিলাম মারখাম হিলটন নাকি অন্য কোনো হোটেলের দিকে। পথে কথাই কথা। হোটেল কাছে আসতে তারা বল্লেন, পরদিন রাতে ভ্যাঙ্কুভারে ফিরতি ফ্লাইট। সন্ধ্যায় টরন্টো বাংলা টাউনে কিছুক্ষণ সময় কাটাবেন। পারলে চলে যেতে বললেন! যাওয়ার আগে আরো কিছুটা আড্ডা হবে। বল্লাম, ফোন করলেই বিশ মিনিটে চলে আসবো। পরদিন সানডে। বিকাল গড়াতে নানাজন ডাকাডাকি শুরু করলো। সবাইকে না করে দিলাম। বল্লাম, নতুন-মহুয়ার সাথে পদ্মা রেস্টুরেন্টের অতিকায় ডালপুরীর কাটা পেটে সস ও সালাত পুরে খাবো আর আডা দেবো। অপেক্ষায় রাত বেড়ে গেলো তারা আর কল করলেন না। আমার বোঝা উচিত ছিলো বড় পুরস্কার পেয়েছেন কত কেউ ডাকবে ডিনার খাওয়াবে। এয়ারপোর্টে গিয়ে দিয়ে আসবে। অযথা আমি তাদের কথা শুনে অপেক্ষায় ছিলাম, আমারই ভুল। একটা ফোন করে অন্তত জানাতে পারতেন! কি আর করা। তবু একটা ভাবাবেগ ভেতরে মেঘের কুন্ডলির মত ঘুরপাক খাচ্ছে। ভাবলাম ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছে হয়তো সরি টরি বলে কল করবেন। না, নতুন মহুয়া তাও করলেন না। দিন গেলো, সময় পার হয়ে গেলো।
এই গতকাল ঢাকা থেকে দুই সপ্তার জন্যে টরন্টো এসেছে শিল্পীবন্ধু লায়লা শারমিন স্বামী জিয়া-সহ। লায়লার অভ্যাসই এমনি! ডাকবে যখন পাগলের মত ডাকবে – এই ইকবাল আইসা পড়। আজ জেটলেগ গেছে, সময় মত ঘুম ঠিকঠাক হয়েছে। বাইরে কোথাও টিম হর্টনে কিংবা অন্য কোথাও গিয়ে আড্ডা দেই। দুই মিনিট পর আবার কল – এই কতদূর? আসো,আসো। বুঝলাম যেতেই হবে। তাই বেরিয়ে গেলাম। কেনেডি এন্ড এলসমেয়ার রোডের কাছেই লায়লা জিয়া বাড়ি কিনেছে। বাড়িতে তাদের একমাত্র সন্তান পিএইচডির ছাত্রী মেয়েটি একাই থাকে।
দেখা হতেই লাফিয়ে গলাগলি। লায়লা জানতে চাইলো – আসার আগে কতবার কল করলাম ধরলা না কেন? আরে তখন মিন্টুর বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে মঞ্চে ছিলাম। পরে রাতে কলব্যাক করবো ভেবে ভুলে গেছি। মঞ্চে আবার কি করলা! গানটান গাইয়া দিলা নাকি? আরে না! এবার মিন্টু ইকবাল হাসানের নামে হাজার ডলারের সাহিত্য পুরস্কার দিয়েছে। জুরী দলে আমিও ছিলাম। তাই মঞ্চে উঠতে হলো। কে পেলো এত ডলারের সাহিত্য পুরস্কার? ভ্যাঙ্কুভার থেকে আসা শাহানা আকতার মহুয়া। আর অমনি নাম শুনে লায়লা লাফিয়ে বলে উঠলো – আরে ওর সঙ্গে আমার খুব খাতির হয়েছিলো। যখন কয়েক মাস মেয়ের ভর্তির জন্যে ভ্যাঙ্কুভারে ছিলাম তখন। কি যে ভালো মহুয়া! কতকিছু দেখালো, খাওয়ালো। আছে নাকি এখনো? কাল নিয়ে যেওতো ওর কাছে। গত রোববারেই চলে গেছে। যাওয়ার আগে বাংলা টাউনে নিজেরাই দেখা করবে বলে আর কলই করলো না! আজব ব্যাপার! তুমি কি জানো তাদের ট্রাজেডির কথা? -না! আমি জানবো কি করে? কী ট্রাজেডি?-
গত বছর ওদের একমাত্র ছেলে বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়ে মোটর সাইকেল একসিডেন্টে মারা গেছে! আমি হতভম্ব হয়ে হাঁ করে তাকিয়ে থাকলাম লায়লার দিকে। আমি মোটেই আশা করিনি এমন কথা। ইশ্বল্লাহ একি করলেন এমন ভালো মানুষদের সঙ্গে। মুহূর্তে ওদের প্রতি হাল্কা জমে ওঠা ভাবাবেগ পরিষ্কার হয়ে গেলো। আমিও একমাত্র কন্যাসন্তানের পিতা। প্রায় প্রার্থনা করি সন্তানের আগেই যেন যেতে পারি। যেহেতু যদি সন্তান যাওয়ার পর বেঁচে থাকা এক নারকীয় কষ্ট। কাছে থাকলে ওদের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে সহানুভূ জানাতাম। যদিও তা তাদের মোটেই দরকার নেই। সাহিত্যে এত বড় পুরস্কার পেলো মহুয়া আর আমি তার সাহিত্য ও চর্চা ছেড়ে কী সব লিখছি।
সরি মহুয়া ও নতুন। মহুয়ার কিংবা কারো কবিতা নিয়ে কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি কবি নই। কবিতা ভালো লাগে কিন্তু বুঝি না। হয়তো তাই মহুয়া সঙ্গে করে যে কটা তার বই এনে ছিলেন তার মধ্য থেকে তার অনুবাদ করা বই ‘আর্মেনিয়ান গল্প’ আমাকে লিখে উপহার হিসেবে দিয়ে গেছেন। সেটিও আমি পড়ে শেষ করতে পারিনি। আমার স্ত্রী ইতোমধ্যে বইটি পড়ে শেষ করেছেন। আমার স্ত্রী হা এবং না এই দুইয়ের টানে পড়া নারী তাই নাম তারও শাহানা। দুর্ভাগ্যবশত পুরোনো ঢাকার জমিদার বাড়ির কন্যা। ওল্ড ঢাকার গর্বে সদা ভরপুর। তাদের বাড়িতেই শোনা যেত নাকি আর্মেনিয়ান চার্চ আর সেমিস্ট্রির উঁচু গেটে ঝুলন্ত বিশাল পেতলের ঘন্টার মধুর ঢং ঢং আওয়াজ। তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া তার দাদার নামে আবুল খয়রাত রোড, পুরোনো কেন্দ্র্রিয় জেলখানা থেকে বংশাল জুড়ে যাওয়া জ্যাঠা আবুল হাসনাতের নামে রোড এমন কি পিতা আবু জাফর জিয়াউল হকের ডাক নাম নাবালক মিয়াঁ লেন সবই ঘুরে ফিরে আর্মানীটোলার আশেপাশে গিয়ে মিশেছে। শাহানা ইকবাল তার আর্মানিটোলা স্কুল, আর্মেনিয়ান চার্চ আর সেমেন্ট্রির চাইল্ডহুড নস্টালজিয়ার টানে মহুয়ার আর্মেনিয়ান গল্প’ পড়ে ফেলেছে। যদিও ঢাকার আর্মানিটোলার কিছু নেই, হয়তো আর্মেনিয়ান শব্দটিতেই তার শৈশবের জাদুমন্ত্র স্মৃতি মিশে আছে। আমি যতটুকু মহুয়ার ‘আর্মেনিয়ান গল্প’ বইটি পড়লাম অনুবাদের ভাষা বেশ স্বচল মনে হলো। একটা গতি সামনে টেনে নিয়ে যায়।
প্রিয় সুনীলদা একবার বলেছিলেন তোমার ভাষায় যদি গতির টান থাকে তাহলে হাল্কা গল্প থাকলেও গদ্য এগিয়ে যাবে। মহুয়ার অনুবাদ গল্পের বই পড়ে সেই পুরোনো কথা মনে পড়লো। যদিও আর্মনিয়ান গল্প বইটিতে যাদের গল্প আছে তারাই নানা সময়কালে আর্মেনিয়ান গদ্য সাহিত্যের পিলার। যেমন ডেরেনিক দেমিরচিয়েন, সেরো খানজাদায়ান, আভেতিক ইসাহাকিয়েন, ভাকট্যাং আনালিয়ান, খাজাক জিউলনাজরিয়ান,পারচ জেভতুনসিয়ান, হোভানেস তৌমানিয়ান, রাফায়েল আরামাইয়ান, স্তেফানজোরাইয়ান।
এখানেই শেষ হতে পারতো তবে আর একটু আমার নিজের অভিজ্ঞতা আর্মেনিয়ান চার্চের বিশাল পেতলের ঘন্টা নিয়ে লিখে শেষ করি। আজো কোথাও লিখিনি তবে সমকালের ‘কালের খেয়া’ কিংবা সেই টাইপের কোথাও ঘটনার বিস্তারিত লিখবো।আজ অল্প একটু টিজার দিয়ে রাখি। আমার কয়েক যুগের বন্ধু ছিলো বাংলাদেশের কিং অফ দ্য সং এবং গ্রেট মিউজিক কম্পোজার লাকী আকন্দ। এককালে তারা থাকতো আর্মেনিয়ান চার্চ ও সেমেট্রির রাস্তার ওপারে ঠিক উল্টাদিকে তিনতলায়। তখন হ্যাপী নেই শুধু লাকী ও তার মা থাকতো। আমি মাঝে-মাঝে দুই-তিন দিন ওদের বাসায় লাকীর সাথে থেকে যেতাম। বইয়ের কভার করতেও ফরাশগঞ্জে মুক্তধারা অফিসে হেঁটেই চলে যেতাম। সারারাত জেগে ভোরের দিকে ঘুমাতে যেতাম দুইজনে।
এক রাতের তিন প্রহর শেষ চারদিক সুনসান। জানালা দিয়ে বাইরে চোখ যেতে দেখি মানুষটানা ঠেলাগাড়ি নিয়ে এসেছে অন্তত আট-দশজন লোক। মই দিয়ে উঁচু আর্মেনিয়ান চার্চের গেইটে বিশাল পেতলের ঘন্টাটি খুলে দড়ি বেঁধে নামানো হচ্ছে, ঠেলাগাড়িতে তুলে চম্পট দেবে বলে। আমরা দু’জন কিছু ভেবে না ভেবে দরজা খুলে সিড়ি দিয়ে ক্যাংগারু লাফ দিয়ে নেমে গিয়ে চোরদের সামনে লাফালাফি করতে লাগলাম। এখন এই বর্তমানকাল থেকে তখন চোর ডাকাতেরাও বেশ সভ্য ছিলো। হাতে তাদের বড় ছুড়ি ও মোটা লোহার রড থাকা সত্বে আমাদের দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে রেখে গেলো আর্মেনিয়ান কোনো একজনে কবরে দাঁড়ানো কংকক্রিটের মাতা মেরীর স্ট্যাচুর সাথে।
পরদিন সকালে লাকীর মা আমরা ঘরে নেই দরজা খোলা তারপর বাঁধা অবস্থায় আমাদের দেখে লোকজন নিয়ে আমাদের দড়ি খুলে বাসায় এনে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন লাকীর জন্যে। হ্যাপীর অকাল মৃত্যুর পর লাকীই তার সবেধন একমাত্র সন্তান।
শেষে বাংলামেইল–কবি ইকবাল হাসান সাহিত্য প্রথম পুরস্কারটি প্রাপ্তির জন্যে শাহানা আকতার মহুয়াকে আবারও অভিনন্দন। পুরস্কারটি কালক্রমে আরো মান সম্মান অর্থপ্রাপ্তি বাড়বে আশা করি। আমার পরম কবিবন্ধু ইকবাল হাসানের আত্মা হয়তো খুবখুশি হবে, বেঁচে থাকতে সে এসব আসলেই খুব পছন্দ করতো। থাকলে শহিদুল ইসলাম মিন্টুকে আদরে জড়িয়ে ধরে আত্মহারা হয়ে উঠতো।