কানাডায় নতুন অভিজ্ঞতা : পুরনো ভাবনা
প্রথম অভিবাসী হয়ে কানাডায় এসে যেন এক নতুন জীবন শুরু করলাম। নতুন করে সংসার গোছানো, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো, আর সহধর্মিণীকে তো বাংলাদেশ থেকেই নতুন করে ছাত্রী বানিয়ে নিয়ে এসেছি। তার মানে তাঁকে আগেই একটি কমিউনিটি কলেজে ভর্তি করেই কানাডায় নিয়ে এসেছিলাম।
তখন জানুয়ারি মাস, আমরা কানাডায় স্থায়িভাবে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পিয়ারসনস এয়ারপোর্টে এসে ল্যান্ড করলাম। উইনটার সেশনের ক্লাস শুরু হয়ে গেছে ততদিনে। সম্ভবত একদিন পরেই আমরা কলেজে গিয়ে রিপোর্ট করলাম, কিন্তু শিপ্রা উইনটারে আর ক্লাস করার অনুমতি পেলো না। যেহেতু এক সপ্তাহ আগেই ক্লাস শুরু হয়ে গেছে, তাই। আমি নিজেও তখন ডিপার্টমেন্ট চেয়ারের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ে আলোচনা করলাম, জানালাম, আমাদের টরন্টোতে আসতে একটু যে দেরি হবে এবং ততদিনে ক্লাস শুরু হযে যাবে, আমরা এই বিষয়টি কলেজের সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে আগেই জানিয়েছিলাম। অনেক অনুরোধ করলাম। এমনকি শেষ পর্যন্ত খানিকটা বিতর্কও হলো আমার সঙ্গে। কেননা আমি নিজেও তো এই এডুকেশন সেক্টরে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে আসছি কিন্তু কোনো কাজ হলো না। সিদ্ধান্ত হলো, শিপ্রাকে পরের সেমিস্টার থেকে ক্লাস শুরু করতে হবে। জানি না, একে কি নতুন অভিজ্ঞতা বলা যাবে? তবে কানাডায় এসেই প্রথম একটা ধাক্কা খেলাম।
যা হোক, তারপর নিজেকে নিয়েই ভাবতে শুরু করলাম। মনস্থির করলাম আবারও লেখাপড়া শুরু করবো। চতুর্দিকে খোঁজ-খবর শুরু করলাম, আজ এই ইউনিভার্সিটিতে যাই, তো কাল আরেক ইউনিভার্সিটি। কাউন্সিলরদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলি। ফলাফল শূন্য। আমার সিভি দেখে প্রায় সবাই একই কথা বলেন, তুমি যথেষ্ট এডুকেটেড এবং অভিজ্ঞ, শুধু শুধু আবার পড়াশোনা শুরু করে এত দীর্ঘ সময় নষ্ট করবে কেন? তারচে বরং টিচার্স ট্রেনিং কোর্স করে একটি কলেজে ঢুকে যাও, তুমি পারবে। তোমার এমফিল, পিএইচ.ডি ডিগ্রি আছে, বেশ কিছু রিসার্চ পাবলিকেশনস আছে, শুধু শুধু আবারও পিএইচ.ডি করার পরিকল্পনা করছো কেন? আর এখানে পিএইচ.ডি করতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগে।
তবুও, শেষ পর্যন্ত কিছুটা হতাশ হয়েই ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে বিদ্যা অর্জনের জন্য ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর Continuing Study Department-এ সান্ধ্যকালীন শিফটে ভর্তি হই। বহু বছর পর আবারও ক্লাসে নিয়ম করে যাতায়াত শুরু করলাম, কাঁধে ব্যাগ, শরীরে ছাত্র ছাত্র গন্ধ, কিছু নতুন বন্ধু জুটলো, ক্লাসের ফাঁকে, কিংবা, শুরুতে অথবা শেষে খানিকটা আড্ডাবাজি, বেশ ভালো লাগতে শুরু করলো। তবে একটা বিষয় ক্লাস করতে এসে লক্ষ করলাম, আমি এবং কলকাতা থেকে আসা আর একটি ছেলে ছাড়া সবাই এখানে কানাডার মেইনস্ট্রিম থেকে এসেছে। বেশিরভাগ স্টুডেন্ট বিভিন্ন কোম্পানিতে ভালো ভালো পজিশনে মার্কেটিং-এর জব করে। ইউএফটির বিশাল গ্যালারি রুমে ক্লাস, ১৫০ থেকে ২০০-র মতো স্টুডেন্ট প্রতি ক্লাসে, ইন্সট্রাক্টর ক্লাস নিচ্ছেন, পিনপতন নীরবতায়। পরীক্ষা, এ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, সবকিছুই আমার চিরচেনা, তবু এত বছর পরে আমার নিজের ছাত্র বনে যাওয়ার অভিজ্ঞতাই আমার কাছে এক নতুন অনুভূতির জন্ম দিলো।
এখানে পাঠ সম্পন্ন করে আবারও একটি কলেজে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হই, মূলত টিচার্স ট্রেনিং বিষয়ে। প্রায় বছরব্যাপী এই ডিগ্রিটি শুরু করার কিছুদিন পরেই কানাডার একটি প্রাইভেট কলেজে বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টে পড়ানোর সুযোগ লাভ করি।
২.
বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সেমিস্টার সিস্টেমে পড়িয়ে এসেছি আর এখানে প্রাইভেট কলেজটিতে গিয়ে পেলাম মডিউল সিস্টেম। অর্থাৎ একটি মডিউল শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর একটি মডিউল শুরু হবে। যেমন, মার্কেটিং মডিউলটি চার সপ্তাহব্যাপী ক্লাস সম্পন্ন হওয়ার পর একাউন্টিং মডিউলটি শুরু হবে। এই পদ্ধতির যেমন সুবিধা আছে, তেমনি আবার অনেক অসুবিধাও আছে। যেমন অল্প সময়ের মধ্যে এ্যাসাইনমেন্ট, টেস্ট, প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি নানাবিধ ইভালুয়েশনগুলো সম্পন্ন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়াও সব মডিউলের জন্য এক রকম সময় নির্ধারণ করা থাকে না, কোনো মডিউলে চার সপ্তাহ আবারও কোনো মডিউলে আট সপ্তাহ। এই বিষয়টিও ইভালুয়েশনের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতার সৃষ্টি করে। তবে বিভিন্ন মডিউলের চাহিদা অনুযায়ী এদের সময় নির্ধারণ করা হয় এবং যা কানাডার মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন কর্তৃক অনুমোদিত হতে হয়। পরবর্তীকালে বিষয়টি আমার কাছে আরো পরিষ্কার হয়ে এসেছে যখন আমি মিনিস্ট্রি অব এডুকেশনের পক্ষে কাজ করে নতুন অথবা পুরাতন কলেজসমূহের নতুন কোর্স কারিকুলাম এ্যাসেস করার সুযোগ লাভ করি।
এই প্রাইভেট কলেজটিতে বছরখানেক কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন শেষে একটি কমিউনিটি কলেজে (পাবলিক কলেজ) পড়ানোর সুযোগ পাই। কমিউনিটি কলেজগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতোই সেমিস্টার সিস্টেম, আর এই সিস্টেমের সাথে আমি দীর্ঘকাল ধরে পরিচিত এবং কমফোর্টেবল ফিল করি। বিগ ক্লাসরুম সাইজ। কোনো কোনো ক্লাসে ১৫০-এর ওপরেও স্টুডেন্ট, আবার কোনোটিতে ৫০-এর কম। মনে হয়, বেশ সুন্দরভাবে যাত্রা শুরু করে সবার নজর কাড়তে সক্ষম হচ্ছি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই। আমি বরাবরই যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, কেননা আমার কোর্সগুলোর ওপর যথেষ্ট দখল ছিল আর ছিল ক্লাসরুমে পড়ানোর দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা। আমার সেই পুরোনো দিনের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা নতুন করে উস্কে দিলো এই কানাডার মাটিতে যা ক্রমে কানাডিয়ান সংস্কৃতি ও ভাবধারার সাথে মিশ্রিত হয়ে কানাডিয়ান এক অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করলো।
৩.
আসলে পড়াতে গিয়ে কখনো মনে হয়নি আমি খুব বেশি একটা নতুন করে শিখছি কানাডিয়ান প্রেক্ষাপটে। কেননা, এই নর্থ আমেরিকান কারিকুলামের সাথে আমার পরিচয় বহু বছর আগেই ঘটেছে। হ্যাঁ, তবে নতুন অভিজ্ঞতা যে লাভ করিনি, তা নয়। সেগুলো ক্লাস পরিচালনার ক্ষেত্রে, কমিউনিকেশনস-এর ক্ষেত্রে। স্টুডেন্টদের মুখ থেকে স্যার ডাক শুনে অভ্যস্ত ছিলাম বহুকাল, আর এখানে শিক্ষককে ছাত্ররা নাম ধরে ডাকে। প্রথম দিকে খটকা লাগতো, বেশ বিব্রত বোধ করতাম, তবে পরে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের নাম ধরে ডাকলেও তাঁদের মধ্যে শিক্ষকদের প্রতি কোনো শ্রদ্ধাবোধের অভাব দেখিনি, বরং প্রায় সবাই যথেষ্ট বিনয়ী ও অনুগত।
অন্যদিকে আবার এটিও ভালো লেগেছে যে, আমরাও ‘বস’দের নাম ধরে ডাকি। তেমন কোনো বসিং ভাব লক্ষ্য করা যায় না বসদের মধ্যে। একটা ইকুয়ালিটি, সাম্যের জোয়ার চতুর্দিকে, এখানে মূলত সবাই সবাইকে নাম ধরে ডাকছে, যে যার মতো কাজ করে যাচ্ছে সমান মর্যাদা নিয়ে। এই বিষয়টি সত্যি আনন্দদায়ক এবং কানাডীয় সুন্দর অভিজ্ঞতাও বটে। তবে এর বাইরে আমার কাছে তেমন কোনো নতুন অভিজ্ঞতা মনে হয়নি। হয়ত আমার মূল সাবজেক্ট-এর বাইরেও নতুন নতুন কোর্স পড়িয়েছি, যেমন– একটি কোর্স ছিল Transitioning to Canadian Culture.
এই জাতীয় কোর্সগুলো পড়াতে গিয়ে কানাডার সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস ইত্যাদি সম্পর্কে নতুন করে জেনেছি, নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করেছি। আর বিজনিস ডিপার্টমেন্টে এখানে এই ধরনের কোর্সসমূহ অফার করা হয় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদেরকে কানাডীয় সংস্কৃতি ও ভাবধারার সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়ে দেবার জন্য। আবার আমার এরিয়ার মধ্যে Marketing Management যেমন পড়িয়েছি, তেমনি পেয়েছি Techno Marketing (Digital Marketing) সফটওয়ার বেজড ল্যাব ক্লাস, কিছুটা নতুন লার্নিং, নতুন অভিজ্ঞতা।
৪.
এখানে শিক্ষক হিসেবে আমরা যেমন ছাত্রদের প্রতি সেমিস্টারে ইভালুয়েশন করি, তেমনি শিক্ষকদের পারফরমেন্সও প্রতি সেমিস্টারে কঠোরভাবে ইভালুয়েশন করা হয়Ñ দুই তিন স্তরে। প্রথমত ছাত্রদের দ্বারা সার্ভে সম্পন্ন করে সেই সার্ভের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। অন্যদিকে ক্লাসরুম অবজারভেশন সেশন পরিচালনা করা হয় কোনো সিনিয়র প্রফেসর অথবা হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট কিংবা ডিনের প্রত্যক্ষভাবে ক্লাসরুমে উপস্থিতির মাধ্যমে। তারা এভাবেই শিক্ষকের ক্লাস পরিচালনাটা অবজার্ভ করেন।
এক্ষেত্রে অবজারভেশন শেষে শিক্ষকের সঙ্গে বসে একটি আলাদা স্থানে আলাদা মিটিং-এ শিক্ষককে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক প্রদান করে থাকেন সেই অবজারভার। কোনো ইমপ্রুভমেন্ট প্রয়োজন যদি তিনি বোধ করেন, তার জন্য যথাযথ পরামর্শও প্রদান করে থাকেন। বিষয়টি অবশ্যই একজন নতুন শিক্ষকের উন্নয়নের জন্য খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
এই হলো মোটামুটি আমার নিজস্ব ফিল্ডে কাজের অভিজ্ঞতার কিছু খতিয়ান। তবে আরো অনেক খুঁটিনাটি বিষয় আছে, যার সবকিছু এখানে লেখা সম্ভব নয়, কিছুটা বাধ্যবাধকতাও আছে বৈ কি; চাইলেই বোধহয় প্রফেশনাল সবকিছু এদেশে বাইরে প্রকাশ করা সমীচীন নয়। আমরা আমাদের দেশে (বাংলাদেশ) দেখি অনেকেই হুটহাট প্রফেশনাল প্লেসের ছবি পোস্ট করে যাচ্ছেন স্যোসাল মিডিয়ায়, কিন্তু এখানে পারমিশন ছাড়া একজন ছাত্রের সঙ্গে ছবি পোস্ট দেয়াটাও বোধহয় স্বাভাবিক সৌজন্যবোধের পরিচায়ক নয় এবং সাধারণত কেউ তা দেয় না। অন্তত, আমি নিজে কখনো এমনটা করি নাই। তাই লেখার ক্ষেত্রেও বেশ সচেতনতা নিয়েই লিখতে হচ্ছে।
৫.
তবু একটি বিষয় এখানে শেয়ার করতে ইচ্ছে করছে, যা দিয়ে আমি আমার এই লেখার ইতি টানবো। তা হলো, একদিন বলা যায় হঠাৎ ক্লাসরুমে পুলিশ এসে হাজির। যদিও এখানে পুলিশ আসাটা নতুন কোনো বিষয় নয়, তবু ক্লাসরুমের ঘটনা বলে কথা। একটি ছাত্র তার সহপাঠী একটি মেয়েকে উক্ত্যক্ত করে। আর যায় কোথায়, মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে ৯১১-এ কল করেছে, মুহূর্তেই পুলিশ এসে হাজির।
তিন ঘণ্টার ক্লাস, মাঝামাঝি ২০ মিনিটের একটি বিরতি দিয়ে আমি লান্স করতে গিয়েছি লান্স রুমে। এমন সময় আইটি ডিপার্মেন্টের একজন এসে আমাকে এই খবরটা দেয়। তারপর লান্স রুমে বসেই আইটি সহকর্মীটির সহায়তায় তার ল্যাপটপের মাধ্যমে ভিডিও ক্যামেরায় ফুটেজ চেক করি। দেখি, ঘটনা ঘটেছে ক্লাস বিরতির সময়। আইটির সেই সহকর্মীটি আমাকে আশ্বস্ত করলো এবং পরামর্শ দিলো তোমার আর এখন পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার দরকার নেই। তোমার অবর্তমানে ঘটনাটি ঘটেছে। যা করার ওরাই বুঝে নেবে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে।
যা হোক, সেদিন কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তাঁরা (পুলিশ) ছাত্রটিকে একটি প্রাথমিক ওয়ার্নিং দিয়ে চলে যায় এবং পাশাপশি ছাত্রীটিকে বলে যায়, এরপর আবারও কিছু হলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সত্যি এটি ছিল আমার কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা যেখানে সহপাঠীর অসদাচরণ নিয়ে শিক্ষক কিংবা কলেজ কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ না করে সরাসরি পুলিশ কল করা হয়।
৬.
কর্মক্ষেত্রের এই অভিজ্ঞতার বাইরেও কানাডা প্রবাস জীবনে কত বিচিত্র ঘটনা আর অভিজ্ঞতা জমেছে স্মৃতির ভাণ্ডারে, তা বলে বা লিখে শেষ করা যাবে না। এখানকার সমাজ ও জীবন, মানুষের বিহেভিয়ার, এটিচুয়েট, অনেক ইতিবাচক কিছু বিষয় আছে, যা মনে দাগ কাটার মতো। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের সঙ্গে এখানে এসে দেখা-সাক্ষাৎ, পরিচয় হয়েছে, আবার কেউ কেউ পূর্ব পরিচিত। সব মিলিয়ে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে কানাডিয়ান সংস্কৃতির মিশ্রণে একটা ভিন্নতর জীবন যাপন এই প্রবাস জীবনে নতুন স্বাদ আর নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে বৈকি।
এখানকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এমন কিছু কিছু ইতিবাচক ঘটনা আছে যা মনে রাখার মতো। মানুষের সৌজন্যবোধ, মানবিক মূল্যবোধের মর্যাদা, সামাজিক সাম্য, সততা ইত্যাদি অনেক প্রশংসনীয় বিষয় আছে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। আবার বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের সঙ্গে এখানে এসে দেখা-সাক্ষাৎ এবং পরিচয় ঘটেছে কারো কারো সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে আবার অনেক পুরোনো বন্ধু যাদের ঢাকা থেকেই চিনতাম তাদেরকে এখানে নতুন করে পেলাম। নতুন পুরাতনের এই মিলন, অবিরাম ব্যস্ততম যাপিত জীবন। তার মধ্যেও বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাঙালির গৌরবময় ঐতিহ্য একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উদযাপন, ইংরেজি নববর্ষ বরণ-সহ অনেক আনুষ্ঠানিকতায় নিজস্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টাও এদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন অভিজ্ঞতা বৈকি। যদিও আমরা যতই এসব অনুষ্ঠান করি, রমনা বটমূলের বৈশাখ উদযাপন কিংবা রাজধানীর আনন্দ মেলার তুলনা এখানে চলে না। তবু এখানে এই সুদূর প্রবাসে বাঙালিদের মধ্যে যে হার্দিক সম্পর্ক, সেটা সত্যিই অন্যরকম আনন্দের।
লেখক পরিচিতি
দীর্ঘ চার দশকের অধিক সময় ধরে কবিতা, ছড়া ও গবেষণাসহ সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করে যাচ্ছেন। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বেশ কিছু সম্মাননা লাভ করেন। এর মধ্যে সম্প্রতি ভারতের কলকাতায় ‘জাতীয় কবিতা উৎসব সম্মাননা ২০২৪’ এবং আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে ‘তিন বাংলা সম্মাননা ২০২২’ গ্রহণ করেন। এ যাবৎ তাঁর লেখা এগারোটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

