কানাডার সাহিত্য নিয়ে আমার বই লেখার আদি-অন্ত
২০২৫ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে আমার বই ‘কানাডার সাহিত্য’। প্রকাশক ভিরাসত। কানাডার টরন্টো শহরের যে এলাকায় আমার আবাস সেখানকার পাক্ষিক পত্রিকা বিচমেট্রো …
২০২৫ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে আমার বই ‘কানাডার সাহিত্য’। প্রকাশক ভিরাসত। কানাডার টরন্টো শহরের যে এলাকায় আমার আবাস সেখানকার পাক্ষিক পত্রিকা বিচমেট্রো …
২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর আমাদের সাহিত্য সংগঠন বেঙ্গলি লিটারারি রিসোর্স সেন্টার (বিএলআরসি) আয়োজিত দ্বিতীয় কানাডীয় লেখক সম্মেলনের শুরুতে সকল অতিথি দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে কানাডার বাঙালি কমিউনিটির সেই সময় পর্যন্ত প্রয়াত যে সকল লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তাঁরা হলেন ড. মীজান রহমান, মোল্লা বাহাউদ্দিন, ড. জহিরুল ইসলাম, মাহফুজুল বারী এবং ড. প্রশান্ত সরকার।
অসিত দত্তের জন্ম হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মাস আগেই। তারিখটা ছিল ১৯৩৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। অসিত মনে করতেন তখন থেকেই যমরাজা তাঁর মুত্যুর বোতামটি টেপার জন্যে প্রস্তুত। কিন্তু চিত্রগুপ্ত নাকি দৌঁড়ে এসে যমকে দেখিয়েছিলেন, অসিতের অনেক কাজ করবার রয়েছে – খাতায় নাকি তেমনটিই লেখা রয়েছে। রহস্যজনকভাবে বেঁচে যাওয়া সেই মাংসপিণ্ড বড়ো হবার সাথে সাথে শুরু করেন দাপট ছড়াতে। পরিবারের ও সমাজের ওই প্রজন্মের সকলের প্রিয় অসিত ক্রমে ক্রমে হয়ে ওঠেন দাপুটে মেঝদা।
অধ্যাপক ড. মীজান রহমান (১৯৩২-২০১৫) প্রয়াত হয়েছিলেন জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখে। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়া মাত্রই টরন্টোর বাঙালি সমাজে গভীর এক হাহাকারের শব্দ শোনা গিয়েছিল। সে শব্দের তীব্রতা পুরো উত্তর আমেরিকা জুড়েই চলেছিল বেশ কিচুদিন। কানাডা-আমেরিকা জুড়ে অনেকগুলো শহরে তাঁকে নিয়ে শোকসভাও হয়েছিল। আমার বর্তমান শহর টরন্টোতেও তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে ৮ ফেব্রুয়ারি বাঙালিরা সমবেত হয়েছিলেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কারবরো ক্যাম্পাসে। সেখানে মনস্বী এ বাঙালির জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ছাড়াও তাঁর জীবনী নিয়ে তৈরি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, তাঁর লেখা বইয়ের প্রদর্শনী, তাঁর রচিত পুস্তক থেকে পাঠ, এবং তাঁর পছন্দের গান ও কবিতা নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
২০১৫ সালের ২১ জুন টরন্টোর বাংলাদেশ সেন্টারে ‘মুক্তিযুদ্ধে মেজর হায়দার ও তাঁর বিয়োগান্ত বিদায়’ এবং ‘একাত্তরের গেরিলা’ নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সেন্টারে ড. জহিরুল ইসলামের গ্রন্থদুটির ওপর আয়োজিত সে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট চিত্রকর গোপেশ মালাকার। আলোচকদের অন্যতম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক গবেষক তাজুল মোহাম্মদ। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা হিসেবে দেলওয়ার এলাহী এবং সওগাত আলী সাগরের সাথে আমারও থাকা সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু এসব বয়ানের পেছনে আরও কিছু কথা আছে।
কথাটা কষ্টের। সে বছর মে মাস থেকেই শুনছিলাম জহিরভাইয়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। শুনতে শুনতে পত্রিকায় পড়তে থাকলাম তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটার কথা।
২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট টরন্টোর স্থানীয় সময় রাত বারোটা পেরিয়ে একটায় বাসাতে ফিরি। একটি নিমন্ত্রনে যাওয়াতে ফিরতে এতো রাত হয়ে গিয়েছিল। শুতে যাবার আগে নৈমিত্তিক কাজ হিসেবে ফেসবুকে ঢুকতেই দেখলাম ইনবক্সে কয়েকটি মেসেজ। একটি মোল্লাভাইয়ের কাছ থেকে। অনেক রাত হয়ে গেছে, মোল্লাভাই ঘুমিয়ে গেছেন, এই ভেবে ওটা খুললাম সবার পরে। খুলতেই শরীর-মন অবশ হয়ে আসতে লাগলো। মোল্লাভাইয়ের ফেসবুক একাউন্ট থেকে মেসেজটি পাঠিয়েছেন তাঁর মেয়ে। লিখেছেন, ‘হাই আঙ্কেল, আমি শ্যামা, আব্বা আর আমাদের মাঝে নেই।’
সুব্রত কুমার দাস কানাডা জার্নাল একসময় ছিল টরন্টো থেকে প্রচারিত এনআরবি টেলিভিশনে সুব্রত কুমার দাস উপস্থাপিত একটি অনুষ্ঠানের নাম। ২০১৯ সালে প্রিয় এই টেলিভিশন চ্যানেলে কানাডা জার্নাল নামে আমরা সেই অনুষ্ঠানটি প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করি। এনআরবি টেলিভিশনের প্রধান মানুষ বন্ধুপ্রতীম এবং সহোদরপ্রতীম শহিদুল ইসলাম মিন্টুর উৎসাহ ও সহযোগিতার কারণেই অনিয়মিত…