• কলকাতা বইমেলা এবং আমার বই-সংযোগ

    কলকাতা বইমেলায় আমি কখনও যাইনি। কলকাতাতে কবে গিয়েছি সেটাও বিশেষ মনে পড়ে না। যদিও এই কলকাতাতেই কেটেছিল আমার শৈশবের উজ্জ্বল একটি সময়।  ধর্মগতভাবে আমি হিন্দু হলেও এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের অনেক আত্মীয় ছড়িয়ে থাকলেও, বাংলাদেশের অনেক হিন্দুর মতো কলকাতা বা ভারতের সাথে আমার সংযোগ দৃঢ় হয়নি কখনও। পেশাগতভাবে লেখক হলেও, বাংলাদেশের অনেক লেখকের মতো বছর বছর কলকাতায় যাওয়া, কলকাতার লেখকদের সাথে লেনদেন তৈরি করার পরিবেশ আমি পাইনি।

  • এক কাপ চায়ে আমি…তোমাকে চাই

    চায়ের মাদকতা ঠিক কিসে? শুধুই কি তার স্বাদে গন্ধে বর্ণে নাকি আসল রোম্যান্স লুকিয়ে আছে প্রাত্যহিক অভ্যাসের আমেজে? চা আমাদের যাপনের সাক্ষী – সে একাকী যাপনই হোক অথবা যৌথ । “ওর কিন্তু খুব চায়ের নেশা” কথাটার মধ্যে বেশ একটা আদুরে প্রশ্রয় আছে, তিরস্কার বা সামাজিক অননুমোদন নেই। চায়ের নেশা বেশ আটপৌঢ়ে অথচ অন্তরঙ্গ একটা ব্যাপার – বলা যায় প্রতিদিনের চা-পান এমন একটা আচারানুষ্ঠান যা সাক্ষী থাকে আমাদের দৈনন্দিনতার, আর যা ক্রমে হয়ে ওঠে স্মৃতি ও অনুভূতির একেকটি খণ্ড।

  • ভাষা সচেতনতা দিবসে নিজের ভাষার ভালোবাসা

    কোনো ভাষা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারা মানে কি কেবলই সেই ভাষায় সুললিতভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারা? অনেকের তেমনই ধারণা। কিন্তু ভাষার পরিচয় শুধু মাত্র সাহিত্যে নয় ; তার পরিচয় সাধারণ জীবন যাপনের অংশ হিসেবে দৈনন্দিন ব্যবহারে। শহুরে কথিত বাংলা অল্পবিস্তর ইংরেজি মিশ্রিত। বিশুদ্ধতাবাদীদের ভ্রুকুটি সত্বেও এটাই এখন বাস্তব। মজাটা হয় তখন যখন কোনও কারণে আপনি পুরো বাংলায় কথা বলতে বাধ্য।

  • গ্রন্থালোচনা: একজন রনি রয়

    মায়া ওয়াহেদ সম্পাদিত ‘শাশ্বতিক : রনি প্রেন্টিস রয় সন্দর্ভ’ (২০২৩, কবিমঞ্চ প্রকাশনী, মৌলভীবাজার, বাংলাদেশ; প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ) গ্রন্থটি পড়তে বসে একজন রনি রয়কে গভীরভাবে জানা গেল। বইটি কেবল রনি রয়ের পরিচিতিমূলক সংকলন নয়; এটি গতানুগতিক স্মারকগ্রন্থ বা সংকলিত গ্রন্থের কাঠামো পেরিয়ে সত্যি সত্যি একটি অভিসন্দর্ভের মর্যাদায় উন্নীত হতে পেরেছে। তার কারণ এই সংকলনেই চিহ্নিত হয়ে আছে।

  • জিপিএস

    তখন কানাডাতে আমি একদমই নতুন। আমি ক্রাইসলার জীপের একটি গাড়ির ডিলার অফিসে সেলসের কাজ করছি। অনেকের সাথে পরিচয় হলো। ভিন্ন পেশার অনেক নতুন বন্ধু হলো। হাসি ঠাট্টা তামাসা গল্প খাওয়া দাওয়া সব মিলে খুব আনন্দেই চলছিল। এর মধ্যে আমাদের পরিচিত একজনের একটি বাস্তব ঘটনা যা কিনা আনন্দও দিয়েছিল এবং কিছুটা কষ্টও দিয়েছিল।

  • ইকবাল হাসানের গল্প: সমকালের নিখাঁদ দর্পণ

    বাংলাদেশের সাহিত্যে প্রচারবিমুখ নিভৃতচারী এক কবির নাম ইকবাল হাসান (১৯৫২-২০২৩), যিনি সত্তর দশক থেকে এদেশের কাব্য ও গদ্যের ভুবনে নিজস্ব আবাস গড়ে তুলেছেন। দেশের চিরসবুজ জেলা বরিশালের কোমল পরিবেশে জন্ম ইকবাল হাসানের। শৈশব-কৈশোর এবং যৌবনের তরঙ্গায়িত দিনগুলো অতিক্রম করে তিনি অর্থনীতিতে স্মারক শেষ করে সাংবাদিকতায় এম.এ করার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

  • কবি ইকবাল হাসান- ভিড়ের ভেতরে ভিন্ন একজন

    আগে দু-একবার চোখে পড়লেও বা কবিতা পড়া থাকলেও বিশেষভাবে ইকবাল হাসান (জন্ম: ডিসেম্বর ৪, ১৯৫২, বরিশাল; মৃত্যু: এপ্রিল ১৩, ২০১৩, টরন্টো) নামটি আমার চিন্তার মধ্যে প্রবেশ করে ২০০২ সালের দিকে। তখন আমি ঢাকায় বসে অধ্যাপনার ফাঁকে ফাঁকে সত্তরের দশকের কবিদের কবিতা নিয়ে একটি বই লেখার চেষ্টা করছি। সত্তরের দশকে আমার জন্ম এবং বিশেষভাবে এই সময়টি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্যও ‘আবছা-আলোয়-…

  • শুধু অকারণ পুলকে

    সকালে উঠে মনটা একসঙ্গে ভালো এবং খারাপ হয়ে গেল। ভালো হওয়ার কারণ উঠেই দেখলাম আকাশ থেকে পেজা তুলোর মতন ঝিরঝির করে তুষার পরছে। আর মনটা খারাপ হলো এই জন্য, যে আজ সকালে আর বাইরে হাঁটতে যেতে পারবো না। ঠান্ডার কারণে না, ঠান্ডা খুব বেশি নয়, কারণ হলো তুষার  পড়ার ফলে ফুটপাত (এ দেশের ভাষায় সাইডওয়াক) পেছল হয়ে আছে, এই পথে হাঁটতে গেলে ‘পপাত ধরণীতলে’ হওয়ার খুব সম্ভাবনা।

  • বিদ্রোহী কবি নজরুল: এক বিরল প্রতিভা

    সময়ের হিসাবে আধুনিক বাংলা কবিতা বিশ্বযুদ্ধোত্তর এবং ভাবের দিক থেকে তা রবীন্দ্র-বিরোধী। যে ক’জন কবি সাহিত্যিক আধুনিক কবিতার ধ্বজা বহন করেছিলেন কাজী নজরুল তাদের অন্যতম। বাকিদের মধ্যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়, গোলাম কুদ্দুস, প্রেমেন্দ্র মিত্র, জীবনানন্দ দাশ, সুধীন দত্ত, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু …

  • কানাডায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের কর্তব্য

    মানুষ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে তার সন্তানকে। ঈশ্বর পাটনি নামের মাঝিকে মা অন্নপূর্ণা বর চাইতে বলাতে সে বলেছিল, “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।” ভগবান যেমন মানুষের মুখের আয়নায় নিজেকে দেখতে চান, সেরকম মানুষও তার সন্তানের মুখের আয়নায় নিজেকে দেখতে চায়।

  • আমার বাবা-মা

    বাবাকে অল্প বয়সে হারিয়েছি। তিনি মাত্র ছেচল্লিশ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন। তিনি জীবনে খুব সার্থক ছিলেন। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। তিনি এম.এসসি., বি. এল. (গোল্ড মেডেলিস্ট) ছিলেন।  কর্মজীবনে ছিলেন গেজেটেড অফিসার। আর সে কারণেই  আমাদের ভাই-বোনদের জীবন ছিল মাতৃকেন্দ্রিক।

  • গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ

    জহরলাল নেহেরু বলতেন যে, ভারতবর্ষকে জানতে হলে দুজনকে জানলেই চলবে – মহাত্মা গান্ধী এবং গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রথমজন যদি ভারতের শরীর হন, তাহলে দ্বিতীয় জন ভারতের আত্মা। ভারতের এই আত্মাকে জানতে হলে আমাদের প্রাচীন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে জানতে হবে। প্রাচীন ভারতীয় সমাজে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও শিক্ষকের মর্যাদার আসন ছিল। তারই ফলস্বরূপ আমরা পেয়েছি সম্রাট অশোক এবং বিক্রমাদিত্যের মতো…

  • টরন্টোর মঙ্গল শোভাযাত্রা: ফিরে দেখা

    সকালে এবং বিকেলে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা আমার বহু বছরের অভ্যাস। যদিও আমার এই অভ্যাসকে আড়ালে কেউ কেউ বলেন পাগলামি, কেউ বলেন বাড়াবাড়ি, আবার কেউ বলেন আদিখ্যেতা। হাঁটার কথা মনে হতেই আমার দুজনের কথা মনে পড়ছে – ৭৫ বছর আগে প্রয়াত আমার বাল্যবন্ধু খোকন শিকদার – যে বলতো যে সে সকাল এবং বিকাল দুবেলাতে মর্নিং ওয়াক করে। কারণ ওর ধারণা ছিল হাঁটার ইংরেজি মর্নিং ওয়াক।

  • বিলে-নরেন-বিবেকানন্দ

    ‘বিলে’ নামের যে দুরন্ত বালক নিজের দুরন্তপনায় বাড়ির সকল আত্মীয়, নিজের বন্ধু-বান্ধবদের এবং পাড়াপড়শিদের ব্যতিব্যস্ত করে রাখত সেই বিলে যুবক বয়সে রামকৃষ্ণদেবের ভাবশিষ্য হিসেবে যুবক নরেন্দ্রনাথ রূপে ভারতীয় সমাজকে আলোড়িত করেছিল। তিনিই আবার স্বামী বিবেকানন্দ রূপে শিকাগোর মহাধর্ম সম্মেলনের শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে সারা বিশ্বের চিন্তাবিদদের নজর কেড়েছিলেন।

  • গীতা নিয়ে সংলাপ

    ‘শিক্ষিত’ বলতে আমরা সাধারণত দুই ধরনের পড়াশোনা করা মানুষকে বুঝি – এক্সটেন্সিভ স্টাডি (extensive study) করা এবং ইন্টেসিভ স্টাডি (intensive study) করা। এক্সটেন্সিভ স্টাডি বলতে আমরা বুঝি সকল কিছুর অল্পঅল্প জানা (to know something of everything) আর ইন্টেসিভ স্টাডি বলতে বোঝায় কোনো কিছুর গভীরে গিয়ে জানা (to know everything of something)।

  • কানাডার বাঙালি লেখকদের নিয়ে নির্মিত কানাডা জার্নাল ওয়েবসাইট পর্যালোচনা

    ওয়েবপেজের প্রথম প্রবেশে রয়েছে চমৎকার বই পাতা দিয়ে সাজানো মূল লোগো। লোগোটা অনেকেরই বেশ পছন্দ হবে বিশ্বাস। কারণ হলো সেটাতে যে কালার সিলেকশন করা হয়েছে সেখানে ব্যাক হোম বাংলাদেশের পতাকার লাল সবুজে বাংলাদেশের সাথে কানাডার জাতীয় পতাকার একটা চমৎকার সংযোগ করা হয়েছে। ম্যাপেল পাতা আর লাল সবুজের দেশের সাহিত্য সেতু বন্ধন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে লোগোতে। 

  • ভুল শরীরে বসবাস

    ভুল তো ভুলই। জীবমাত্রই ভুল করতে পারে। মানুষ যদি ভুল করে, আর সে ভুল সে বুঝতে পারে, সে ভুল শুধরানোর সুযোগটি তাকে করে দেয়া উচিত। অনেক সময় নিজে ভুল না করেও, পারিবারিক কিংবা সামাজিক চাপে পড়ে মানুষকে ভুল জীবন যাপন করতে হয়। তাদেরকে অভিশাপ না দিয়ে, খারাপ মন্তব্য না করে, আসুন, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। উন্নত বিশ্বে মানুষ যত সহজে এ ব্যাপারটিকে মেনে নেয়, আমাদের তৃতীয় বিশ্বের মানুষেরা সেই বিষয়গুলো সাধারণত ততটা সহজভাবে মেনে নেয় না।

  • কানাডার গণমাধ্যম

    কানাডার গণমাধ্যম অত্যন্ত স্বায়ত্তশাসিত, সেন্সরবিহীন, বৈচিত্র্যময় এবং বেশ আঞ্চলিক। কানাডার মিডিয়া সেক্টরটি খুবই উন্নত তবে এর সাংস্কৃতিক ভাবধারা বিশেষ করে ইংরেজি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন শো এবং ম্যাগাজিনে প্রায়ই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছাপ পাওয়া যায়। ফলে কানাডার বহুল সংস্কৃতিকে সংরক্ষণের দায়িত্ব ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন প্রোগ্রাম, আইন এবং প্রতিষ্ঠান যেমন কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (CBC), কানাডার ন্যাশনাল ফিল্ম বোর্ড (NFB), এবং কানাডিয়ান রেডিও-টেলিভিশন এবং টেলিকমিউনিকেশনস কমিশন (CRTC) এর ওপর বর্তায়।

  • কানাডায় নতুন জীবন

    কোনো মানুষ যখন যে কোনও বিষয়ে তার মনস্থির করে ফেলে তখন কিন্তু তার বাইরে চিন্তা করা থেকে দূরে সরে যায়। এটা যে কোনও ক্ষেত্রেই হতে পারে – সম্পর্কের ক্ষেত্রেই বলুন বা প্রফেশনাল ক্ষেত্রেই বলুন। আপনার আত্মবিশ্বাস যখন খর্ব হয় তখন জীবনের অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। আমি মনস্তাত্বিকও নই বা কোনও আইনজীবীও নই। শুধু নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু শেয়ার করার প্রয়াশ মাত্র। এটা বলার কারণ একটা বয়সে সবার মনই একটু দোদুল্যমান হয়ে থাকে।

  • কানাডাতে সাম্প্রতিক অভিবাসন ও নানাবিধ সমস্যা

    সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশ থেকে দলে দলে সাধারণ মানুষ কানাডা এসেছেন। এই আগমন অব্যাহত আছে। আগমনের মূল উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন। তারপর উন্নত জীবন যাপন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন। অনেক আগে থেকেই কানাডাতে লোকজন আসা শুরু হলেও এবারের আগমন কিছুটা ভিন্ন রকমের। সহজে ভিজিট ভিসা পাওয়াকে কেন্দ্র করে আগমনের গতি অধিক বেগবান হয়েছে। আমাদের দেশের মানুষ কানাডা সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করে থাকেন তা অত্যন্ত ইতিবাচক ও রঙিন।

  • কানাডায় একাকীত্ব – এক নিরব মহামারী

    কেউ কি আছ? এক বিশাল বাড়ীর প্রাচীরে প্রতিফলিত হয়ে আমার কথাগুলো ফিরে ফিরে আসে। অবিন্যস্ত বাগানের বৃক্ষ-লতারা আমার দিকে বিহ্বল হয়ে থাকিয়ে থাকে। অদূরে ঝাউ গাছগুলো বাতাসে দুলে  মাথা নাড়িয়ে বলে – নেই, কেউ নেই, এখানে কেউ থাকে না। গ্রীষ্মের তাপস্পর্শে এখানে সেখানে মাথা তুলে দাড়িয়ে আছে বেশ কিছু সতেজ পিয়নি। মাথায় তাদের ফুলের উদ্ভাস। আমরা একদিন এ পথ দিয়ে যেতে ওর মনোলোভা সৌন্দর্যের আকর্ষণে বাঁধা পড়েছিলেম। তাকিয়ে ছিলেম  অনেকক্ষণ।