কানাডায় বাংলাদেশির অস্বাভাবিক মৃত্যু কাম্য নয়
গত সপ্তাহে কানাডায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুজন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশী অকালে মৃত্যুবরণ করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহত্তম বাণিজ্যিক শহর টরন্টো থেকে প্রায় দেড়শত কিলোমিটার উত্তরে কত্রা লেক অঞ্চলে।
গত সপ্তাহে কানাডায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুজন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশী অকালে মৃত্যুবরণ করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহত্তম বাণিজ্যিক শহর টরন্টো থেকে প্রায় দেড়শত কিলোমিটার উত্তরে কত্রা লেক অঞ্চলে।
আমরা ছাত্রজীবনে একটা কথা প্রায়ই শুনতাম, তা হচ্ছে “তৃতীয় বিশ্বের দেশে প্রতিটা শিশু ভূমিষ্ঠ হয় বিশাল এক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে”। আমাদের শিক্ষকরা যখনই অর্থনীতি বিষয়ে পড়াতেন এবং তৃতীয় বিশ্ব বা উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতেন, তখনই এই বিসয়ে কথা বলেছেন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একটি সাধারণ কথা প্রচলিত আছে যে এসব কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা খুশি তাই করতে পারে। এক মালিকানা কোম্পানি তো বটেই, লিমিটেড কোম্পানি বা নিবন্ধিত কর্পোরেশন বলে খ্যাত যে সব প্রতিষ্ঠান আছে, তারাও তাদের ইচ্ছামত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কাঠামো আর প্রকাশ-কৌশল নিয়ে নানান বিতর্ক এবং মতভেদের ভেতর দিয়ে ছোটগল্প বিচিত্র পথে অগ্রসর হয়েছে। কারণটা সম্ভবত এই যে, গল্প সবসময়ই গল্প – তা মানুষের জীবনের সাথে, অনুভবের সাথে মিশে থাকে; লেখক শুধু নিজের অভিজ্ঞতাকে উপলব্ধির সাথে মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মাত্র।
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রোববার একটা মজার অভিজ্ঞতা হলো। সারা পৃথিবীর প্রধান জলবায়ু অঞ্চলগুলোতে না ঘুরেও ঘোরা হয়ে গেলো। অদ্ভুত লাগছে শুনতে? কিন্তু মোটেও তা নয়।
এই সেদিনের কথা ! আব্বা, আম্মা, আর বড়ো বোনের কাছ ঘেকে চিঠি পেতাম ! বড়ো বোন যখন আমেরিকা গেলো, সেইসময় এতো ইন্টারনেট বা ইউটিউবের চল ছিল না।
উন্মাদনায় ভরা কাউবয় জীবনের রোমাঞ্চময় ঐতিহ্য স্মরণে প্রতি গ্রীষ্মে জুলাই মাসের প্রথমার্ধে দশদিন ব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ এক উৎসবের আয়োজন হয় ক্যালগেরী শহরে। কানাডীয়ান ওয়েস্টের কেন্দ্রে ম্যাজেস্টিক রকি মাউন্টেইন থেকে মাত্র ঘন্টাখানেকের দূরত্বে ক্যালগেরী শহরে সমস্ত পৃথিবী মিলিত হয় বুনো পশ্চিমের (Wild West) সাথে। ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ উদ্যাপনের এই আয়োজন ‘ক্যালগেরী স্ট্যামপিড’ নামে ভুবনবিখ্যাত।
ব্যাম্ফ থেকে ট্রান্সকানাডা হাইওয়ে-১ ধরে ছাপ্পান্ন কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে লেক ল্যুইসে পৌঁছে গেলাম ঘন্টাখানেকের মধ্যে। পার্কং স্পেস থেকে লেক পর্যন্ত বনময় পথে সামান্য হাঁটতে হলো। হিমবাহের পটভূমিতে অসামান্য সুন্দর হ্রদটি দেখে বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে গেলাম। লেক ল্যুইস সম্ভবত এই অঞ্চলের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন হ্রদ।
ভিলেজের সব রাইড টিকিট মূল্যের মধ্যে। ডান পাশে প্রথমেই ‘গ্যাসোলিন এ্যালী’। আকর্ষণীয় ভিনটেজ কার, বিভিন্ন পেট্রোল কোম্পানির কাছ থাকে পাওয়া চমকপ্রদ সব গাসোলিন পাম্প ও এতদ্ সম্পর্কিত অন্যান্য আর্টিফ্যাক্টসের সহস্রাধিক স্মরণীকা আইটেমের সংগ্রহ নিয়ে উত্তর আমেরিকায় বৃহত্তম অটোমোবাইল মিউজিয়াম। ‘বেঙ্গল গ্যাসোলিন’ নামে একটা পোস্টার দেখলাম।
“মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারিত যে, সে ঘুমাইয়া-পড়া শিশুটির মতো চুপ করিয়া থাকিত, তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই লাইব্রেরির তুলনা হইত। এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবাত্মার অমর আলোক কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে কাগজের কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে। … … লাইব্রেরির মধ্যে আমরা সহস্র পথের চৌমাথার উপরে দাঁড়াইয়া আছি।
চলার পথে এমন কিছু সময় এমন কিছু দিন আসে, যাকে অন্য সময়গুলোর সাথে তুলনা করলে পরিষ্কারভাবে আলাদা দেখায়। বিদ্বৎজনের সান্নিধ্যে এই ভিন্ন দিন বা সময়গুলো ভালোবাসায়, আনন্দে আর চমৎকারিত্বে প্রভা বিকিরণ করতে থাকে মনের ভেতরে। গত তিনদিন ধরে এমনই এক আলোকশিখার তাপ আর উত্তাপ বুকের ভেতর জমে আছে যেন!
ক্যানাডার সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত মন্ট্রিয়াল শহরটি গড়ে উঠেছে বারো মাসে হাজারো পার্বণের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে। সেন্ট লরেন্স নদীর তীরে বেড়ে ওঠা পাঁচশো বছরের প্রাচিন এই শহরটি ফরাসি ভাষার টেলিভিশন-প্রযোজনা, বেতার, থিয়েটার, চলচ্চিত্র, মাল্টিমিডিয়া, মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পেরও তীর্থভূমি। বিশ্বখ্যাত ক্যানাডিয়ান গীতিকার, গায়ক, কবি ও ঔপন্যাসিক লিওনার্ড কোহেন (১৯৩৪-২০১৬), ক্যানাডায় ইয়েটস-এলিয়ট…
কলকাতা বইমেলায় আমি কখনও যাইনি। কলকাতাতে কবে গিয়েছি সেটাও বিশেষ মনে পড়ে না। যদিও এই কলকাতাতেই কেটেছিল আমার শৈশবের উজ্জ্বল একটি সময়। ধর্মগতভাবে আমি হিন্দু হলেও এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের অনেক আত্মীয় ছড়িয়ে থাকলেও, বাংলাদেশের অনেক হিন্দুর মতো কলকাতা বা ভারতের সাথে আমার সংযোগ দৃঢ় হয়নি কখনও। পেশাগতভাবে লেখক হলেও, বাংলাদেশের অনেক লেখকের মতো বছর বছর কলকাতায় যাওয়া, কলকাতার লেখকদের সাথে লেনদেন তৈরি করার পরিবেশ আমি পাইনি।
চায়ের মাদকতা ঠিক কিসে? শুধুই কি তার স্বাদে গন্ধে বর্ণে নাকি আসল রোম্যান্স লুকিয়ে আছে প্রাত্যহিক অভ্যাসের আমেজে? চা আমাদের যাপনের সাক্ষী – সে একাকী যাপনই হোক অথবা যৌথ । “ওর কিন্তু খুব চায়ের নেশা” কথাটার মধ্যে বেশ একটা আদুরে প্রশ্রয় আছে, তিরস্কার বা সামাজিক অননুমোদন নেই। চায়ের নেশা বেশ আটপৌঢ়ে অথচ অন্তরঙ্গ একটা ব্যাপার – বলা যায় প্রতিদিনের চা-পান এমন একটা আচারানুষ্ঠান যা সাক্ষী থাকে আমাদের দৈনন্দিনতার, আর যা ক্রমে হয়ে ওঠে স্মৃতি ও অনুভূতির একেকটি খণ্ড।
কোনো ভাষা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারা মানে কি কেবলই সেই ভাষায় সুললিতভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারা? অনেকের তেমনই ধারণা। কিন্তু ভাষার পরিচয় শুধু মাত্র সাহিত্যে নয় ; তার পরিচয় সাধারণ জীবন যাপনের অংশ হিসেবে দৈনন্দিন ব্যবহারে। শহুরে কথিত বাংলা অল্পবিস্তর ইংরেজি মিশ্রিত। বিশুদ্ধতাবাদীদের ভ্রুকুটি সত্বেও এটাই এখন বাস্তব। মজাটা হয় তখন যখন কোনও কারণে আপনি পুরো বাংলায় কথা বলতে বাধ্য।
মায়া ওয়াহেদ সম্পাদিত ‘শাশ্বতিক : রনি প্রেন্টিস রয় সন্দর্ভ’ (২০২৩, কবিমঞ্চ প্রকাশনী, মৌলভীবাজার, বাংলাদেশ; প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ) গ্রন্থটি পড়তে বসে একজন রনি রয়কে গভীরভাবে জানা গেল। বইটি কেবল রনি রয়ের পরিচিতিমূলক সংকলন নয়; এটি গতানুগতিক স্মারকগ্রন্থ বা সংকলিত গ্রন্থের কাঠামো পেরিয়ে সত্যি সত্যি একটি অভিসন্দর্ভের মর্যাদায় উন্নীত হতে পেরেছে। তার কারণ এই সংকলনেই চিহ্নিত হয়ে আছে।
তখন কানাডাতে আমি একদমই নতুন। আমি ক্রাইসলার জীপের একটি গাড়ির ডিলার অফিসে সেলসের কাজ করছি। অনেকের সাথে পরিচয় হলো। ভিন্ন পেশার অনেক নতুন বন্ধু হলো। হাসি ঠাট্টা তামাসা গল্প খাওয়া দাওয়া সব মিলে খুব আনন্দেই চলছিল। এর মধ্যে আমাদের পরিচিত একজনের একটি বাস্তব ঘটনা যা কিনা আনন্দও দিয়েছিল এবং কিছুটা কষ্টও দিয়েছিল।
বাংলাদেশের সাহিত্যে প্রচারবিমুখ নিভৃতচারী এক কবির নাম ইকবাল হাসান (১৯৫২-২০২৩), যিনি সত্তর দশক থেকে এদেশের কাব্য ও গদ্যের ভুবনে নিজস্ব আবাস গড়ে তুলেছেন। দেশের চিরসবুজ জেলা বরিশালের কোমল পরিবেশে জন্ম ইকবাল হাসানের। শৈশব-কৈশোর এবং যৌবনের তরঙ্গায়িত দিনগুলো অতিক্রম করে তিনি অর্থনীতিতে স্মারক শেষ করে সাংবাদিকতায় এম.এ করার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আগে দু-একবার চোখে পড়লেও বা কবিতা পড়া থাকলেও বিশেষভাবে ইকবাল হাসান (জন্ম: ডিসেম্বর ৪, ১৯৫২, বরিশাল; মৃত্যু: এপ্রিল ১৩, ২০১৩, টরন্টো) নামটি আমার চিন্তার মধ্যে প্রবেশ করে ২০০২ সালের দিকে। তখন আমি ঢাকায় বসে অধ্যাপনার ফাঁকে ফাঁকে সত্তরের দশকের কবিদের কবিতা নিয়ে একটি বই লেখার চেষ্টা করছি। সত্তরের দশকে আমার জন্ম এবং বিশেষভাবে এই সময়টি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্যও ‘আবছা-আলোয়-…